এহসান কেলেঙ্কারিতে নিজের নাম আসতেই সুর বদলে ফেললো হাফিজুর রহমান

দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়ে জনসম্মুখে উঠে এসেছে পিরোজপুরের এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড। মাওলানা রাগীব আহসানের এই কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুমানিক ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান রাগীব আহসানসহ তার চার ভাইয়ের সাতদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছেন।

তবে কেবল এহসান গ্রুপের মাঝেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এহসান গ্রুপকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীর দেয়া এক বক্তব্য ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

ভাইরাল হওয়া সেই ক্লিপে এহসান গ্রুপ সম্পর্কে নানা প্রচারণা চালিয়েছেন দেশের অন্যতম পরিচিত এই মুখ। এসব বিষয়ে জানতে ফেস দ্যা পিপল থেকে কয়েক দফায় মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল করেও ২ দিন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীর পিএস রফিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফেস দ্যা পিপলকে বলেন হাফিজুর রহমান হুজুর দুই মাস যাবৎ তার গ্রামের বাড়িতে তার বাবা-মায়ের কাছে থাকেন। আমার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই।

তবে ফেস দ্যা পিপল বিশেষ সূত্রে জানতে পায় হাফিজুর রহমান ঢাকাতেই থাকেন। বর্তমানে তিনি তার মাদ্রাসাতে আছেন।

এরপর ফেস দ্যা পিপল টিম তার মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে প্রথমে বিভিন্নজনের বাঁধার সম্মুখীন হয়। একপর্যায়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর হাফিজুর রহমান সাক্ষাৎকার দিতে সম্মতি জানায় তবে কোন ভিডিও করা বা ছবি তোলা যাবে না এই শর্তে।

ফেস দ্যা পিপল পাঠকদের জন্য তার সাক্ষাৎকারটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো। ফেস দ্যা পিপল: এহসান গ্রুপের প্রতারণার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি..?

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: সেখানে আমি বক্তা। ওলিপুরী সাহেব গেছে, হাটহাজারীর হুজুরে গেছে, আজিজুল হক মাদানী, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী সহ আমাদের লাইনের যত উল্লেখযোগ্য বক্তা এবং ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা মুহতামিম সাব শায়খুল হাদিস সাব সবাই ওখানে উপস্থিত ছিলেন।

ওখানে বক্তা হিসাবে গেছি। বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিছি। ওখানে অনেক আলেম ওলামা ওটার সাথে জড়িত দেখলাম, সে হিসেবে এটার একটা প্রচারণা করলাম যে, হ্যাঁ সুদ মুক্ত যদি হয় খুব ভালো।

সে ক্ষেত্রে কিছু কথা ওয়াজের প্যান্ডেলে বলছি শেষ সময়ে এটাও বলছি যতদিন তারা হকের সাথে থাকবে আল্লাহ বারাক। যদি আল্লাহ না করুক দুনিয়ার লোভ ভিতরে ঢুকে সেই ক্ষেত্রে সবাই সতর্ক হোন আল্লাহ আমাদের এর হেফাজত করুক… এই কথাটা তারা কাট করে এটা দেয়নি। এই শেষের অংশটা কে তারা ছাড়েনি।

ফেস দ্যা পিপল: আপনি একজন হুজুর আপনার অনেক অনুসারী আছে তারা আপনাকে ফলো করে আপনি যেটা বলেন সেটা মানে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। এরকম একটা পজিশনে থেকে একটা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে প্রচারণা চালানো কতটুকু যুক্তিসম্মত?

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: না। আমি গিয়েছি ওখানে ২০১৮ সালে যাওয়ার ৬ মাস পরেই তো এই ঝামেলা শুরু হয়েছে। এর আগে থেকেই তাদের সদস্য ছিল। ২০০৭ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম ৫০ হাজারের মত তাদের সদস্য, আমারে দেইখা কি সদস্য হইছে নাকি? এখানে আমারই কি! আমি না ২০১৮ সালে বক্তব্য দিলাম।

সে (অভিযুক্ত রাগীব আহসান) আমারে একদিন টেলিফোন করছে হুজুর বিপদে আছি দোয়া কইরেন। এর পর তো মিডিয়াতে খবর আইয়া গেল এই অবস্থা… পরে আর তেমন সম্পর্ক তার সাথে নেই।

আমি তো ১২ মাসই ওয়াজ মাহফিল করি ব্যাস্ত থাকি। বৃষ্টি নাই রৌদ্র নাই আমার প্রোগ্রাম চলতেছে। ফেস দ্যা পিপল: আপনার বক্তব্যের ভিতরে এক অংশে আপনি বলেছেন এহসান গ্রুপ গোটা দুনিয়ার জন্য রহমত স্বরূপ এর ব্যাখ্যা কি?

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: এটা প্রসঙ্গে বলছি। এটা তো আর অত দাড়ি কমা দিয়ে বয়ানে বলা যায়না, কথা প্রসঙ্গে হয়তো আসছে।

হারাম থেকে যদি কেহ হালালে নিয়ে আসে, ওখানে বলছি সুদের যে গুনাহ আপন মায়ের সাথে জেনা করার সমতুল্য… সেক্ষেত্রে একটা সুদ মুক্ত প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে এটা তো জাতির জন্য কল্যাণকর। সেই ক্ষেত্রে বলা আরকি। সেসময় কোন টু টা শব্দ নাই এখন একদম দোষ বাইর হইছে।

এইযে ইলিয়াছুর রহমান জিহাদীর বক্তব্য আছে, অলিপুরি সাহেবের বক্তব্য আছে, হাটহাজারী হুজুরের সাইন দেওয়া সমার্থন করা। শুধু এটা না ওখানে পিরোজপুরের প্রশাসন জেলা এসপি আরো অনেকে এটার অনুমোদন দেয়া।

সেখানে পুরস্কার দেছে তাকে। সেই ক্ষেত্রে তখন এই কথা বলছি। এখন এইটা নিয়ে মাথা ঘামানো বা কথা না বলাই আমার উত্তম। আমি চুপ আছি, চুপই থাকি। ও সমালোচকরা এমনেই বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আমি নিষ্পাপ আমার কোন দোষ নাই আশাকরি।

ফেস দ্যা পিপল: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে আপনার এই বিষয়টা ভাইরাল হওয়ার পর কিছু লোক মন্তব্য করছে যে আপনাকে গ্রেফতার করা হোক এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: শত্রুরা তো বইসা নেই তারা তো চায় আমার প্রতিরোধ। তো আল্লাহ যদি না চায় তো কি করবো।

ফেস দ্যা পিপল: এই বিষয়ে আপনার উপরে প্রশাসনের কোন প্রেসার আছে কি. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: নাহ আলহামদুলিল্লাহ ফেস দ্যা পিপল: সর্বোপরি এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী: মিডিয়ায় এহসান গ্রুপ বা তার সদস্যদের খবর না নিয়ে আমারে নিয়া পইরা রইছে। আমি মিডিয়ায় কখনোই যাই না। আমার কথা হল এতোটুকু আমি যদি সত্যের উপর।