জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারসহ ১০ জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সহ ১০ জনকে দলের করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসন কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং চলাকালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। যা রাজনৈতিক ইতিহাসে কলংক জনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে।আওয়ামীলীগ সরকারের বুঝা উচিৎ জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারি সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি; বর্তমান সরকারেরও হবে না। তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বেআইনীভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান।

তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১০ জনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শাহ আলী মাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাবতলী গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মোঃ তসলিম, মাহফজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী শুরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, ডা. মঈনুদ্দীন, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা শিবির সভাপতি শাব্বির বিন হারুন, উত্তর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

এম আর করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, গণমুখী ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক আদর্শ ও সংবিধান মেনেই জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। যেকোন ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও রাজপথে সভা-সমাবেশ করা জনগণের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার হলেও সরকার জনগণের সে অধিকারকে অনেক আগেই কেড়ে নিয়েছে। এমনকি করোনা পূনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন বৈঠক থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে সরকার আবারও প্রমাণ করেছে তারা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শাসনে বিশ্বাসী নয় বরং জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে চায়। কিন্তু জনগণ তাদের সে স্বপ্নবিলাস কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করবে। তিনি সরকারের জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।