মাঠ প্রশাসন সরকারের এখন বড় মাথাব্যাথা ! বিশ্লেষকরা বলেছেন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ম-নীতি এবং সরকারি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যই মাঠ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকরা একেকটি উপজেলায় বা জেলায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা অনেক গুন বেড়ে গেছে। তারা জনপ্রতিনিধির কাছে এখন আর জবাবদিহি করেন না।

কিন্তু এই ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে মাঠ প্রশাসন যেন এক নতুন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের কাছে। একের পর এক ঘটনা ঘটছে যে ঘটনাগুলো সরকারকে বিব্রত করেছে। সর্বশেষ ঘটনা হলো বরিশালে ইউএনওর সঙ্গে সিটি মেয়রের বিরোধ। সিটি মেয়র কি অন্যায় করেছেন না করেছেন সেটি পরের বিষয়।

কিন্তু অনেকেই বলছেন যে স্থানীয় ইউএনও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেননি। এটি নিশ্চয়ই তদন্তে বেরিয়ে আসবে কার অপরাধ কতটুকু বা কার দায়িত্ব কতটুকু। কিন্তু বরিশালের ইউএনওর ঘটনাই শুধু নয়, সারাদেশে মাঠ প্রশাসন এখন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিছুদিন আগেই নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক, দুর্নীতি ইত্যাদি নানা অভিযোগ উঠছে এখন মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, লাগামহীন ক্ষমতার কারণেই মাঠ প্রশাসনে এরকম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছে।

জামালপুরের ডিসির নারী কেলেঙ্কারি: জামালপুরের ডিসি এক অধীনস্থ নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তারপর তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে লঘু শাস্তি দিয়ে তার পদাবনতি করা হয়েছে। কিন্তু এটি মাঠ প্রশাসনের মতকে জনগণের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।

অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ বাগেরহাটের ডিসি বদলি: মাঠ প্রশাসনে জামালপুরের ডিসির আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই বাগেরহাটের ডিসির বিরুদ্ধেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে বাগেরহাটের ডিসি আ ন ম ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ ওঠার পর আ ন ম ফয়জুল হককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

কুড়িগ্রামের ডিসির কাণ্ড: অনৈতিক কর্মকাণ্ড না করেও ক্ষমতার দাপট দেখানো মাঠ প্রশাসনের যেন একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং সাজা দেন। এই ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে দেয়া হয়েছে লঘু দণ্ড। এটিও মাঠ প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের আরেক নজির।

ফরিদপুরের ডিসি: ফরিদপুরের ডিসির সঙ্গে সেখানকার সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর বিরোধ হয়। ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকার তাদের কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, একজন ডিসি কি একজন জনপ্রতিনিধির টেলিফোন আলাপ রেকর্ড করতে পারেন এবং সেটি ফাঁস করে দিতে পারেন?

গৃহহীনদের ঘর নিয়ে কেলেঙ্কারি: মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ এসেছে এখন গৃহহীনদের ঘর নিয়ে কেলেঙ্কারি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পের ঘর নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ বেশ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এটি মাঠ প্রশাসনের নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনা বলে কেউ কেউ উল্লেখ করছেন।

শুধু এই সমস্ত ঘটনাই নয়, ঢাকায় করোনার সময় একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তা করার ঘটনা কিংবা বিভিন্ন সময় মাঠ প্রশাসনের জনপ্রতিনিধিদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া যেন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়ে পড়েছে। তাই এখন চিন্তা করতে হবে মাঠ প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কিনা। এখনই মাঠ প্রশাসনকে একটা জবাবদিহিতার আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে এই মাথাব্যথা আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার