ইংলেন্ডের গুপ্তচর’ইভোন রিডলের’ সাথে তালেবানের আচরণ, বিশ্বকে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল !

ইংলেন্ডের নারী সাংবাদিক ও গুপ্তচর ইভোন রিডলের ‘In The Hands Of Taliban’ বই থেকে: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বং সের কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকা আফগানিস্তানে হা মলা শুরু করে। তখন আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালিবান। ওই আ ক্রমণে আমেরিকার অন্যতম সহযোগী হিসাবে ইংল্যান্ডও অংশ নেয়।

ইংল্যান্ড তাদের পক্ষ থেকে অনেকের মতো সাংবাদিক ইভোন রিডলেকে গুপ্তচর হিসাবে আফগানিস্তানে প্রেরণ করে। সাধারন আফগান মহিলাদের মতো হিজাব পরে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করেন ইভোন। মাসখানেক পর চরম যুদ্ধাবস্থায় তালিবানদের হাতে ধরা পড়ে যান ইভোন।

ইভোন তার ‘In The Hands Of Taliban’ বইতে সেই ঘটনা লিখেছেন এভাবে,’ধরা পরার পর দেখি কুড়ি/পঁচিশজন তালিবান বন্দুক তাক করে ঘিরে আছে। ভাবলাম মৃত্যু আর কয়েক সেকেন্ড বাকি। আবার ভাবলাম,এরা মনে হয় এতো সহজে আমাকে মারবেনা। নিশ্চয়ই সবাই মিলে আগে ধ র্ষন করবে তারপর হ ত্যা করবে।

আ তংকগ্রস্ত আমি এরকম ভাবতে থাকলাম। এরপর তালিবান যোদ্ধারা আমাকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে গেলো। এবার সবাই মিলে আমাকে ধ র্ষন শুরু করবে এই ধারণা বদ্ধমূল হলো। নির্জন সেই ঘরে কয়েক ঘন্টা কেটে গেলো।

আশ্চর্য হলাম ! তখন পর্যন্ত কেউ তারা আমার শরীর স্পর্শ তো দূরের কথা, ভালো করে আমার চোখে চোখ পর্যন্ত রাখেনি। কিছুক্ষণ পর দুজন মহিলা এসে আমাকে তল্লাশি শুরু করলো এবং আমার শরীরে লুকানো রিভলবার নিয়ে নিলো।

মহিলা দুজন বারবার আমার অভিসন্ধি জানতে চাইলো। শেষমেষ বলেই দিলাম,’আমি ইংল্যান্ডের সাংবাদিক এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে’। ভাবলাম,এবার হয়তো তারা আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু তারা কই? কোথায় তালিবান ধ র্ষক?

এভাবে দুদিন কেটে গেলো। আমি আর কোনো পুরুষ তালিবানকে দেখতে পাচ্ছিনা। যা কথাবার্তা হচ্ছে সব সেই মহিলা দুজনের সাথে। সেই মহিলা দুজন বদ্ধ ঘরে আমাকে নিয়ম করে খেতে দিচ্ছে আর জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মনে মনে ভাবছি,’এরা এখনো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে কেন? এরা এখনো আমাকে ধ র্ষণ করেনি কেন?

আমিতো জানতাম তালিবান মানেই ধ র্ষক, আমিতো জানতাম তালিবান মানেই অসভ্য, আমিতো জানতাম তালিবান মানেই নারীলোভী জানোয়ার’!

যাইহোক, এভাবেই কেটে গেলো ১১ দিন। তারপর ডিপ্লোমেটিক ভাবে পাকিস্তানের সাহায্যে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পাই আমি। ছেড়ে দেওয়ার সময় ইংলিশ ট্রানস্লেট একটা ‘কোরআন’ আমাকে উপহার দিয়েছিলো তালিবানরা।

ইংল্যান্ডে ফেরার পর আমার আত্মীয়, আমার কলিগ সবাই বারবার প্রশ্ন করতে থাকে,’তালিবান কেমন ব র্বর? তারা কতবার তোমাকে ধ র্ষন করেছে? কিভাবে ধ র্ষন করেছে? ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি শুধু মুচকি হেসে বলেছি, ‘তালিবানদের মারতে হলে বো মা লাগবেনা, উলঙ্গ মহিলা ছেড়ে দিলে ওরা লজ্জায় এমনিতেই মরে যাবে’। টিকা : তালিবানদের উপহার দেয়া সেই কোরআন পড়ে পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন ইভোন রিডলে। ইভোন রিডলের’ সাথে তালেবানের আচরণ এর এই ঘটনার বর্ণনায় বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল।