তালেবানের বিজয় নিয়ে যা বললেন আজহারী, ফেইসবুক দেওয়া স্টেটাস ভাইরাল !

সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের আফগানিস্তান জয়ে ভীষণ উল্লসিত ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। দ্বিতীয়বারের মতো কাবুলের নিয়ন্ত্রণ কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে গঠন করা বাহিনীর হাতে চলে আসার পর আজহারী একে বলেছেন, ‘আমাদের বিজয়।’

নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে আজহারী বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার পর পর ফেসবুকেই তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে, যেখানে তিনি ‘তালেবান আমাদের নয়, আমেরিকার তৈরি’ বলেছেন।

এই ভিডিওটি ঠিক কবের সে বিষয়ে দিন তারিখ নেই। তবে তিনি যে ধর্মীয় আলোচনা বা ওয়াজ করছিলেন সেটি স্পষ্ট। এটিও বোঝা যায়, তিনি যখন এই কথা বলেছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

ভিডিওতে দেখা যায়, আজহারী বলেছেন, ‘এই আইএস, তালেবান আমাদের তৈরি না। এগুলো আমেরিকার প্রেসিডেন্টগুলার তৈরি। চিল্লায় কন ঠিক কি না। বিল ক্লিনটন আবিষ্কার করে গিয়েছে তালেবান, জর্জ ডাব্লিউ বুশ আবিষ্কার করেছে আল কায়েদা, বারাক ওবামা আবিষ্কার করেছে আইএস, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কিছু আবিষ্কার করেনি।’

তবে রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দখল তালেবানের পক্ষে যাওয়ার পর আজহারী ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বলেন, তা তার সেই আগের বক্তব্যের পুরোপুরি বিপরীত।

তবে তালেবানের কাবুল জয়ের পর তিনি লেখেন, ‘পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে আমাদের ভাইদের বিজয় মানে আমাদেরই বিজয়। কারণ— আমরা এক দেহ, এক প্রাণ।’

তালেবানদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ছাত্রভাইদের স্বাগতম। তাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক।’

তালেবানের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ কী হবে, সেটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই হবে এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দূরদর্শীতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। আল্লাহ তা’আলা তাদের সহায় হোন।’

আজহারী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

তালেবানের দখলে কাবুল এর আগেও গিয়েছিল। ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশটি এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর বছর পাঁচেক কাবুল ছিল তাদের দখলে।

আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থানে বাধা, মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়ে তালেবানের উপেক্ষা নিয়ে নানা সংবাদ এসেছে গণমাধ্যমে। এর পাশাপাশি দেশটি ধর্মভিত্তিক জ ঙ্গি গোষ্ঠীর অভয়াশ্রম হয়ে উঠে বলে অভিযোগ করে আসছিল পশ্চিমা গোষ্ঠী।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পর পাল্টে যায় পরিস্থিতি।

এই হামলা ইসলামী জ ঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার কাজ-এমন অভিযোগ করে দেশটি। আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে তালেবান আশ্রয় দিয়েছে, এমন অভিযোগ করে তাকে তুলে দেয়ার দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা করে। ওই বছরের ডিসেম্বরে কাবুল ছেড়ে যায় তালেবান।

এর কয়েক বছর পর লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে হামলা করে হত্যা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানেই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তালেবান ও বহুজাতিক বাহিনীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গত ২০ বছরে।

তবে সম্প্রতি তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র আর সমঝোতার অংশ হিসেবে দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বলছিল, তারা সরে গেলে ৯০ দিনের মধ্যে কাবুলের পতন ঘটতে পারে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটল ১১ দিনে। আর এতে দেশে দেশে তালেবান সমর্থকরা ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করছেন।

তালেবান আমাদের না, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সৃষ্টি, এটা মনে করলে এখন কেন উল্লসিত-সে ব্যাখ্যা আহজারীর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ফেসবুক পেজের ম্যাসেঞ্জার বক্সে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।