ব্যারিস্টার খোকনের অভিযোগ আইনমন্ত্রীর শপথ ভঙ্গ করেছেন।

‘খালেদা জিয়া দোষ স্বীকার করে ক্ষমা না চাইলে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নেই’ গত বুধবার সংসদে দেওয়া আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেছেন, খালেদা জিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থি। আইনমন্ত্রী হিসেবে তার এ বক্তব্য শপথ ভঙ্গের শামিল।

এ বক্তব্য সমগ্র জাতিকে হতাশ করেছে। এটি ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রতিহিংসা ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডির বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া রায়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছেন, যেগুলো এখনো বিচারাধীন আছে।

এ অবস্থায় আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেওয়ার মধ্যমে তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন খালেদা জিয়া সুপ্রিম কোর্ট থেকেও ন্যায়বিচার পাবেন না? তার এ বক্তব্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে হেয় এবং অসম্মান করেছে বলে আমি মনে করি। তিনি এটা বলতে পারেন না।

খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী আরও বলেন, আইনমন্ত্রী হয়ত বলতেই পারেন। কারণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত রায় দিয়েছে। প্রথম, এখনো দেশের নিম্ন আদালত বাস্তবে আইনমন্ত্রীর অধীনে কাছ করছে। দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টেও বিচারক নিয়োগের নীতিমালা নেই। সরকার তার দলীয় বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ দেন। এজন্য কি আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির আগেই তাকে রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে?

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ১৪৮ ধারা অনুসারে আইনমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। সেই অনুসারে ১৪৮ ধারা পর্যালোচনা করলে আমার মনে হয় আইনমন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আইনমন্ত্রীকে সবিনয়ে অনুরোধ করব, আপনার বক্তব্য ও সংবিধানের শপথ পর্যালোচনা করে পদত্যাগ করা উচিত বা উচিত কি না- সেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

‘৪০১ ধারা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এটি আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। থাকলে তিনি আইন পেশা ছেড়ে দেবেন’ আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আনিসুল হক একজন ভালো আইনজীবী। আমি চাই না তিনি আইন পেশা ছেড়ে চলে যান।’ মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া মিথ্যা দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন।

সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন। সরকারই তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে পাঠায়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০১ ধারায় তাকে দুই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারার আইনে স্পস্ট বলা আছে, সরকার যে কোনো সময় বিনা শর্তে অথবা শর্ত সাপেক্ষে যে কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশে সরকার দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, সরকার চাইলে আরও বেশি শর্ত দিতে পারত বা কোনো শর্তই না দিতে পারত। আইন অনুযায়ী সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে যে শর্ত দিয়েছে তারাই ইচ্ছে করলে শর্ত প্রত্যাহার বা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে। বিএনপির এই আনজীবী আরও বলেন, একজন অসুস্থ, বয়োজ্যেষ্ঠ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আইনমন্ত্রীর কর্কশ বক্তব্য সরকারের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

শর্ত দেওয়া বা প্রত্যাহার করা সম্পূর্ণ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক সরকারের এখতিয়ার উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়াকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক সরকারের মুক্তির আদেশের শর্ত সংশোধন করে তাকে বিদেশে মুক্তভাবে চিকিৎসা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।