অগ্নিদুর্গতদের কল্যাণে সমাজের বিত্তবান সহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি এগিয়ে আসার আহবান-মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, আর্ত মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণই জামায়াতের রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য ও আদর্শ। তাই দেশ ও জাতির যেকোন ক্রান্তিকাল ও বিপদ-আপদে আমরা সাধারণ মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। মানুষের জন্য সে সহানুভূতির অংশ হিসাবেই আমরা আজ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সীমিত সামর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছি। তিনি অগ্নিদুর্গতদের কল্যাণে এগিয়ে আসতে সমাজের বিত্তবান সহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।

তিনি আজ রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণকালে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, বনানী থানা আমীর মিজানুর রহমান খান, থানা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাফী, জামায়াত নেতা শাহজাহান সরকার, মাওলানা মোকাররম হোসাইন, মাওলানা আনোয়ার এলাহী ও জিকরুল ইসলাম প্রমূখ। মহানগরী আমীর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেন।

মহানগরী আমীর বলেন, রাজধানীতে প্রতিনিয়তই অনাকাঙ্খিতভাবে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে। অনুমোদিত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবন নির্মাণে ইমারত বিধি অনুসরণ না করা, নির্মিত ভবনগুলোতে অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন সুবিধা ও আগুন নেভাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় রাজধানী সহ সারাদেশেই অগ্নিদুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় আগামী দিনে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ইমারতবিধি অনুসরণ মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়ন ও ভবন নির্মাণে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিও নিশ্চিত করাও দরকার। অন্যথায় অগ্নিদুর্ঘটনা কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। এমতাবস্থায় কোন মুমিনের পক্ষে উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। ইসলাম মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করার শিক্ষা দিয়েছে। তাই করোনাসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদেরকে দুর্গত, অভাবী ও অসহায় মানুষের কল্যাণে সামর্থ অনুযায়ি কাজ করতে হবে। হাদিসে রাসূল (সা.) বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে প্রিয় যে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তাই মানবকল্যাণের ব্রত নিয়েই আমাদেরকে আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। তিনি করোনা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সকল স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।