ডাক্তার-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্র্যাটের ঘটনাটি যদি জাপানে হতো তাহলে কথোপকথন কেমন হতো?

ইংরেজি প্রবাদ ‘টক অব দ্য টাউন’ অর্থাৎ বহুল আলোচিত বিষয় হিসেবে বর্তমানে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে লকডাউনে এক নারী চিকিৎসকের সাথে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাকবিতণ্ডার ভিডিও। আর সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে আর নিরপেক্ষতায় বিভক্ত নেটিজেনরা।

রোববার (১৮ এপ্রিল) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, লকডাউনের মাঝেই প্রাইভেটকার নিয়ে বের হওয়া এক নারী যাত্রীর কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইছেন লকডাউন বিধিমালা বাস্তবায়নে দায়িত্বরত প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদের মধ্যে আছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস কাইয়ুম। আর শরীরে অ্যাপ্রোন পরিহিতা চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ঐ নারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি বলে জানা যায়।

এছাড়াও ঐ ঘটনায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়া সাদা পোশাকের আরেক কর্মকর্তা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলে জানা গেলেও, তার পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাক্তার-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্র্যাটের এই ঘটনাটি যদি জাপানে হতো তাহলে কথোপকথন কেমন হতো? চলুন ঘুরে আসি জাপান থেকে।

ম্যাজিস্ট্র্যাট: সুমিমাসেন (আমাকে ক্ষমা করবেন), আপনার কি মুভম্যান্ট পাস আছে? ডাক্তার: সুমিমাসেন (আমাকে ক্ষমা করবেন) আমি জেনেছি যে ডাক্তারদের মুভম্যান্ট পাস লাগেনা!

পুলিশ: মোশি ওয়াকে গুজাইমাসেন (দয়া করে কিছু মনে করবেন না) আপনার আইডি কার্ডটা কি দেখতে পারি? অনেকে অনৈতিকভাবে সুযোগ নেয় তো তাই!

ডাক্তার: সুমিমাসেন (আমাকে ক্ষমা করুন) তাড়াতাড়ি বের হতে গিয়ে বাসায় ফেলে এসেছি। আমি বিএসএমইউর (পিজি) একজন সহযোগী অধ্যাপক, আমার গাড়িতে ডাক্তারি কিছু সরন্জাম আছে, চাইলে দেখতে পারেন।

ম্যাজিস্ট্র্যাট: হনতোনি সুমিমাসেন (সত্যিই আমরা দু:খিত) আপনার সহযোগিতার জন্য অনেক ধন্যবাদ! দয়া করে আইডি কার্ড সাথে রাখবেন, সবিনয় অনুরোধ করছি। সাবধানে যাবেন।

ডাক্তার: ইইএ কচিরাকছো আরিগাতো গোজাইমাস (আপনাদেরকেও ধন্যবাদ) আপনাদের দায়িত্ব দেখে আমি মুগ্ধ! করোনা মোকাবেলায় সবাই এক সাথে কাজ করবো ইনশাল্লাহ ! ভাল থাকবেন!

পুলিশ: দায়িত্বের খাতিরে আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য গোমেন নাসাই (ক্ষমা প্রার্থী)। সাবধানে যাবেন। [সত্যি বলতে আমাদের ম্যানার, এটিকেটের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। এটা আমাদের জাতীয় সংকট!]

কথোপকথন ক্রেডিট : জাপান প্রবাসী R A Sarkar Robin