শতাধিক এমপি করোনায় আক্রান্ত > লকডাউন বাড়তে পারে!

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক সংসদ সদস্য (এমপি)। এ ছাড়া প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন এমপি।

সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা খবরের তথ্যমতে, সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ১১১ জন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সংসদ সদস্যের কোনো উপসর্গ ছিল না।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি ছোট মনির ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তানভীর শাকিল জয় দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় আক্রান্ত হন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ (১৪ এপ্রিল) কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু মারা যান।

এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলম ও সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চলমান লকডাউন আরও বাড়তে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হলেও করোনা সংক্রমণে মৃত্যু পর পর দু’দিন একশ’ ছাড়িয়েছে। সবশেষ শনিবারও মৃত্যু হয়েছে আগের দিনের মতো ১০১ জনের। এ পরিস্থিতিতে লকডাউন আরও বাড়ানোর জোর আলোচনা চলছে।

চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় ৫ থেকে ১১ এবং পরে আরও দুদিন বেড়ে লকডাউন ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউন শুরু হয় ১৪ এপ্রিল।

দেশে করোনা পরিস্থিতি

‘সর্বাত্মক লকডাউন’র দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) করোনায় আরও ৯৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৪ হাজার ১৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৩৬২ জনে।

ভ্যাকসিন কার্যক্রম

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে গত ২৭ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়। টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত ৮ এপ্রিল সারাদেশে করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।