গো’পনে বিয়ে করেছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী, পাত্র পছন্দ হয়নি কনের বাবা-মা’র

পাত্র পছন্দ হয়নি কনের বাবা-মা’র-রাষ্ট্রবি-রোধী ও উ-সকানিমূ-লক কথাবার্তা এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্য-ক্তিদের নিয়ে ক-টাক্ষ করার অ-ভিযোগে ইসলামি ব-ক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মা-দানীকে আ-টক করেছে র‌্যাব। আজ বুধবার ভোরে নেত্রকোনা পূর্বধলা উপজেলার

লেটিরকান্দার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আ-টক করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বি-রুদ্ধে ডিজিটাল নি-রাপত্তা আইনে মা-মলা দা-য়েরের প্র-স্তুতি চলছে। অন্যদিকে, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মা-দানীকে নিঃশর্ত মু-ক্তির দা-বি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

এর আগে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা স-ফরবিরোধী মি-ছিল ও ভা-ঙচুরের সময় রফিকুল ইসলাম মা-দানীকে আ-টক করেছিল পু-লিশ। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছে-ড়ে দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম তার এক ব-ক্তৃতায় বলেছিলেন,

‘রাষ্ট্রপতি মানি, যদি সে ইসলাম মানে। প্রধানমন্ত্রী মানি, যদি সে ইসলাম মানে। এই ক-চুর প্রধানমন্ত্রী মানি না যদি সে ইসলামের বি-রুদ্ধে যায়।’’ এখনো ই-উটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই ব-ক্তব্যসহ আরও অনেক উ-স্কানিমূলক বক্তব্য সরকারের ভিতরে এবং বাইরে নানা প্র-তিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

সূত্র মতে, র‌্যাবের হাতে আ-টকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রফিকুল জানিয়েছেন, ‘স্যার আমার হুঁ-শ ছিল না। জো-সের কারণে বলে ফেলেছি। বে-হুঁশে থাকলে অনেকে তো অনেক কিছুই বলে ফেলে।’ তবে দফায় দফায় রফিকুল ইসলামের আ-কুতি ছিল, ভবিষ্যতে তিনি আর এমনটা করবেন না। তার বি-রুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পু-লিশের গাছা থা-নায় মা-মলা দা-য়েরের প্র-স্তুতি চলছে। একইসঙ্গে মা-মলাটির ত-দন্তভার র‌্যাবে রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবে র‌্যাব।

দুই বছর আগেই বিয়ে করেছেন রফিকুল:

গত মঙ্গলবার তিনি ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের ফুলপুরের রহিমগঞ্জে ক-নে দেখতে গিয়েছিলেন রফিকুল। কনের নাম আসমা আক্তার। তবে পাত্রীর বাবা-মা’র পছন্দ হয়নি র-ফিকুলকে। তবে পি-লে চ-মকে উঠা তথ্য হলো, মাওলানা রফিকুল গত ২০১৯ সালের শেষের দিকে হালুয়াঘাটের সেই পাত্রী আসমা আক্তারকেই গো-পনে বিয়ে করে ফে-লেছেন।

আসমা আক্তার তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন আক্তারের চাচাতো বোন। ওই গোপন বিয়ের অন্যতম একজন স্বাক্ষী ছিলেন পারভীন। রফিকুল এবং আসমার ওই বিয়েরও কোন রেজিষ্ট্রি হয়নি। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের জন্য আসমাকে দেখতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর ফেসবুক মেসেঞ্জারে আসমাকে তিনি লিখেছেন, ‘প্রয়োজনে ১০ বছর অ-পেক্ষা করবেন। তবুও তিনি তাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবেন।’

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মা-দানীরা পাঁচ ভাই। রফিকুল সবার ছোট। তার বাবা মৃ-ত শাহাবুদ্দিন। মাদানী নেত্রকোনার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকায় চলে আসেন। সেখানে লেখাপড়া করার সময় ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে আলোচিত হন।

শিশু বক্তা না ডাকতে আপত্তি রফিকুলের:

ইউটিউবে তার কয়েকটি ওয়াজের ভি-ডিওতে দেখা যায়, রফিকুল তার নামের সাথে ‘শিশু বক্তা’ যোগ করার প্রতিবাদ করেন এবং নিজেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে দাবি করেন। র‌্যাবের কা-স্টডিতে ও তিনি তার প্রকৃত বয়স ২৬ বলে দাবি করেছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে তার যেসব ছবি ও ভিডিও আছে, তা বিশ্লেষণ করে

দেখা যাচ্ছে, কণ্ঠ, শা-রীরিক গঠন ও মু-খাবয়বের কারণে তাকে কম বয়েসী ছেলেদের মত মনে হয়। আমাদের নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল বিকালে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব ক্যান্টিনে বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম নেত্রকোনা জেলা শাখা ও তার পরিবারবর্গে একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার মুক্তির দাবি করেছেন।

রফিকুল ইসলামের বড় ভাই রমজান মিয়া বলেন, রফিকুল মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধর্মীয় সভা করে বাড়িতে আসেন। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে গেলে রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব প-রিচয়ে কিছু লোক প্রায় ১৯টি গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়ি ঘে-রাও করে। সেখান থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানী, তার বড় ভাই বকুল মিয়া

(৩৭) ও তার দূর সম্প-র্কের ভাতিজা এনামুল হককে (২৮) তু-লে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বকুল মি-য়াকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দু’জনের খোঁ-জ তাদের জানা নেই। তিনি দাবি করেন, রফিকুল ইসলাম মাদানীর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনসহ তাদের পরিবারের ছয়টি মুঠোফোন জ-ব্দ করে নিয়ে যায় আ-ইন-শৃ-ঙ্খলা র-ক্ষাকারী বা-হিনীর সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলার শাখার সদস্য মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম, বড় ভাই রমজান মিয়াসহ জেলা হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দ। হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তাকে দ্রুত মু-ক্তি না দেওয়া হলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। রফিকুল ইসলাম তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ:

রফিকুল ইসলামকে আ-টকের পর তার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক। বি-বৃতিতে লেখা হয়, রফিকুল ইসলাম তার ওয়াজের মাধ্যমে ‘দেশের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে’ সাধারণ মানুষকে ‘অ-ন্যায়, জু-লুম ও অ-ত্যাচারের বি-রুদ্ধে জা-গ্রত হওয়ার আ-হ্বান’ করেন। বি-বৃতিতে রফিকুল ইসলামের মু-ক্তি দাবি করে অ-ভিযোগ তোলা হয়, যে দেশের প্র-চলিত আইন অ-নুসরণ করে তাকে আ-ইনের আ-ওতায় আনা হয়নি। বিডি প্রতিদিন