গ্রেফতারের ঠিক কয়েক মিনিট আগে > ফেসবুকে যে কথা লিখলেন মামুনুল হক!

“মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাযী:

ইসলামী অঙ্গণে মেধা ও সাহসের সমন্বিত সম্ভানাময় নেতৃত্বের নাম

মঞ্চ ও টেবিলে সমান দক্ষতার পরিচয় রেখে চলেছেন তিনি । হালের জনপ্রিয় ও প্রভাবক টকশোগুলোতে তার সাবলীল ও বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনা প্রতিপক্ষকে লা-জবাব করে ছাড়ছে । জ্ঞান ও শিক্ষার সাধনায় তিনি নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন । সেই সাথে প্র্যাক্টিকাল রাজনীতির শিক্ষাটাও রপ্ত করেছেন যথেষ্ঠ যত্ন নিয়ে ।

রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ইতিমধ্যেই নিজেকে থিতু করে নিয়েছেন । মেধা দক্ষতা আর প্রজ্ঞার পাশাপাশি বুকে আছে তার সাহসের অমিত তেজ । শুধু টেবিল আর অন্দরমহলই নয়, মঞ্চেও শোনা যায় তার সাহসী উচ্চারণ । রাজপথকেও প্রকম্পিত করে তার দৃপ্ত কদমের পদভার ।

আমরা দীর্ঘ একটা পথ পাড়ি দিয়েছি হাতে হাত রেখে । তার “ রাহমাতুল্লিল আলামীন” ফাউণ্ডেশনের কনফারেন্স যেদিন পন্ড করে দেয়া হয়, প্রতিবাদে তিনি নেমে আসেন রাজপথে । ছুটে গিয়েছিলাম আমি তার পাশে দাঁড়াতে । আমার ওপর যখন হামলে পড়ল মিথ্যাশ্রয়ী মিডিয়াদল, তিনি রুখে দাড়ালেন বুক টান করে । সত্যকে তুলে ধরলেন যুক্তির ভাষায়।

আমার প্রিয় এই বন্ধু এখন বন্দি জালিমের জিন্দানখানায় । বন্দি আরো অনেকেই । আমার সামনেও ঝুলছে গ্রেপ্তারের খড়গ । আমাদের মঞ্জিল বহু দূর । আমরা সাহস হারাই না । আমরা জানি, সত্যের এ পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয় । কাঁটায় ভরা এ পথ চলতে বুকে হিম্মত নিয়েই মাঠে নেমেছি । ওদের কুৎসিত কদর্যতার মোকাবিলায় আমরা ফোটাই সত্য-সুন্দরের সুবাসিত ফুল ।

কারাবরণ তো সংগ্রামের পথে সাফল্যের মাইলফলক । আমার কপালেও যদি জুটে যায় সে ভাগ্য, নিজেকে সৌভাগ্যবানই মনে করব । অপবাদের পর কারাভোগ নবী ইউসুফ আলাইহিসসালামের পূর্ণাঙ্গ সুন্নত । আমরা তো জেল-জুলুমই নয়, শাহাদাতের তামান্না নিয়ে সংগ্রামের পথ মাড়াই । জিন্দান খানার পথে সংগ্রামীদের সহাস্য বদন আমাদেরকে উজ্জীবিত করে, অনুপ্রেরণা যোগায় ত্যগ আর কুরবানীর ।

জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনি জানি
শহীদের খুনে হেসে উঠে যবে জিন্দেগানী”

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতারের কারণ জানিয়েছে পুলিশ। রোববার বেলা ১টার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর দুপুর পৌনে ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারের কারণ জানানো হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ বলেন, তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, থানায় হামলা, রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা ভাঙচুরসহ অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম, পাশাপাশি এসব মামলার তদন্ত করছিলাম। তদন্তে তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, গ্রেফতারের পর আজ তাকে মোহাম্মদপুর থানায় রাখা হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামীকাল (সোমবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তার রিমান্ড চাওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের তাণ্ডবের বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না?- এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সেদিনের ঘটনা আপনারা সবাই দেখেছেন।

গত এক মাস ধরে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতের আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মাওলানা মামুনুল হক।

নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে ১৭ জনের মৃত্যুর হয়। এসব ঘটনায় সারাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সহিংসতার ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দফতর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি করেন। source:daily naya diganta