৭১ মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়ে জেল খেটেছেন মোদী: ভারতের মিডিয়া বিতর্ক তুঙ্গে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছিলাম। শুক্রবার ঢাকায় মুজিব শতবর্ষে অনুষ্ঠানে এমন দাবিই করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। স্মৃতিচারণায় তিনি বলেন,’জীবনের শুরুর দিকে আন্দোলনগুলির অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল হওয়া।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্ক আজকের নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধে সময় থেকে। আর শুধু সম্পর্কই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তাঁর অংশগ্রহণও ছিল বলে দাবি করলেন মোদী। তাঁর কথায়,’আমার জীবনের শুরুর দিকে আন্দোলনগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল হওয়া।

তখন আমার বয়স ছিল ২০-২২ বছর। আমি ও আমার সঙ্গীরা সত্যাগ্রহ করেছিলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থনে সামিল হওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেলেও গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এখানে যতটা ইচ্ছা ছিল, ততটাই ছিল ওপারে।’

মোদী (Narendra Modi) বলেন,’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সমর্থন ছিল। ইন্দিরা গান্ধীর চেষ্টা ও তাঁর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, মুক্তি সংগ্রামে জীবনের আহুতি দেওয়ার জন্য লড়ছি না, ইতিহাসে একটা নতুন দিশা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রণব’দা বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ধৈর্য্য, প্রতিজ্ঞা ও আত্মসংযমের প্রতীক।

ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, পারস্পরিক বিশ্বাসে সমাধান হতে পারে। জমি হস্তান্তর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। করোনাকালেও তালমিল রেখে কাজ করেছি। বাংলাদেশে কাজে লাগছে মেড ইন ইন্ডিয়া ভ্যাকসিন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সম্পর্কে যে তথ্য পেশ করেছেন, তা চ্যালেঞ্জ করেছেন এক ভারতীয়। মোদির মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ও তদজনিত কারণে কারাবরণের তথ্যকে ভুয়া বলে দাবি করে তথ্য জানার অধিকার আইনে সঠিক তথ্য জানতে চেয়েছেন ভূমি সন্তান সংঘের সদস্য প্রনোজিৎ দে

বাংলাদেশের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সে দেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি ওইকথা বলেন।

বিজেপি অবশ্য এই আরটিআই প্রসঙ্গে বলেছে, যে ব্যক্তি আরটিআই অর্থাৎ তথ্য জানতে চেয়েছেন তার আরটিআই করার স্বভাব আছে। তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটের মুখে এই বিষয়টি যে ইস্যু হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কোনও রাজনৈতিক দল শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া না দিলেও তৃণমূল কংগ্রেস শনিবার এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাবে।
‘সূত্র: জি বাংলা (india )