হঠাৎ বিএনপির ইউ-টার্ন> ৭ মার্চ নিয়ে বিএনপি: তখন-এখন

হঠাৎ বিএনপির ইউ-টার্ন-বিএনপি তার প্রতিষ্ঠার পর আজ প্রথমবারের মতো ৭ মার্চ উদযাপন করলো। এই উপলক্ষ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা বলেছেন ‘৭ মার্চের ভাষণ একটি ইতিহাস।’ বিএনপির

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঐ আলোচনা সভায় বলেছেন ‘৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’ ঐ আলোচনা সভায় সরকারের নানা সমালোচনা এবং জিয়া গুনকীর্তনের মধ্যেও বিএনপি ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিলো। এটি বিএনপির এক বড় ইউ-টার্ন।

বিএনপি বিভিন্ন সময়ে ৭ মার্চের ভাষণকে কেবল গুরুত্বহীন প্রমাণের চেষ্টা করেনি বরং এই ভাষণকে অ’স্বীকার করার চেষ্টা করেছে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থেকে ৭ মার্চের ভাষণ কার্যত নিষিদ্ধ ছিলো। ১৯৭৯ সালের ৫ মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষে জোহরা তাজউদ্দিন ৭ মার্চের ভাষণ

টেলিভিশন এবং বেতারে প্রচারের দাবি জানান। সে সময় তথ্যমন্ত্রী ছিলেন হাবিবুল্লাহ খান। তার কাছে জোহরা তাজউদ্দিন চিঠি দিয়ে ভাষণটি প্রচারের দাবি জানিয়েছিলেন। জবাবে, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত জবাবে বলা হয়েছিলো ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণ কোনো গুরুত্ব বহন করে না।’

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের দাবিতে ৬ মার্চ বেতার-টিভি ঘেরাও এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এসময় তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ব্যরিস্টার নাজমুল হুদা বলেছিলেন ‘৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করলে ৭ হাজার ভাষণ প্রচার করতে হবে’ (সূত্র দৈনিক সংবাদ ৭

মার্চ, ১৯৯১)। ১০ মার্চ জাতীয় সংসদে বেগম জিয়া বলেছিলেন ‘৭ মার্চের ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছিলো। এই ভাষণ বিভ্রান্তিকর’ (সূত্র ১১ মার্চ দৈনিক সংবাদ)। ২০০২ সালের ৮ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে প্রথম কথা বলেন তারেক জিয়া। ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের এক প্রশিক্ষণ সমাবেশে

তারেক জিয়া বলেছিলেন ‘৭ মার্চের ভাষণ জাতির সাথে এক ধরনের প্রতারণা ছিলো। ঐ ভাষণ বাঙালিকে হত্যোদম করেছিলো।’ (সূত্র দৈনিক ইত্তেফাক ৯ মার্চ)। ২০০৩ সালে বেগম জিয়া ৭ মার্চের ভাষণের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ৮ মার্চ নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বেগম

জিয়া বলেছিলেন ‘৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বাসঘাতকতার এক দলিল। পুরো জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য উদগ্রীব তখন শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য আপোষের পথ খুঁজছিলেন।’ (সূত্র দৈনিক ইত্তেফাক, ৯ মার্চ ২০০৩) শুধু তাই নয় বিএনপি তার ১৯৯১ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ৭ মার্চের

ভাষণকে অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ইতিহাস কি নির্মম। আজ বিএনপিকে ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বিএনপি কি এখন অতীত বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবে?

banglainsider