মাত্র ৩ মিনিট! কারন? > আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে মাসুদ সাঈদীর ফেইসবুক স্টেটাস ভাইরাল

৩ ঘন্টা পথ পাড়ি দিয়ে আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা আল্লামা সাঈদী হাফিজাহুল্লাহকে সকাল ৯:৫৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে আজকে নিয়ে এসেছিলো। এরপর সকাল ১০:০৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১০:০৮ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।

মাত্র ৩ মিনিট ! কারন?

কারন সরকার পক্ষ আদালতে তাদের স্বাক্ষী হাজির করতে পারেনি। কথিত আয়কর ফাঁকির এই মামলাটি সরকার দায়ের করেছিলো ২০১০ সালে। সেই থেকে আজ অবধি এই মামলায় সরকার পক্ষ আদালতে স্বাক্ষী হাজিরই করতে পারেনি। শুধুমাত্র গত ১০ বছরের মধ্যে গত ৬ জানুয়ারী একজন স্বাক্ষীকে হাজির করা হয়েছিলো এবং তিনি মাত্র ১০ মিনিটের একটি অসমাপ্ত জবানবন্দী দিয়েছেন। আজকেও তার স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ছিলো। কিন্তু স্বাক্ষী আসেন নি।

আদালত চলেছে মাত্র ৩ মিনিট। এই ৩ মিনিটের জন্য আল্লামা সাঈদীকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দূর থেকে ৩ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে নিয়ে এসেছিলো।

কিন্তু আমার কথা হলো- এই কষ্টটা না দিলে কি হতো না!!

আব্বার বয়স এখন ৮৩ চলছে। আব্বা হার্টের পেশেন্ট। তার হার্টে ৫টি রিং পড়ানো আছে। তিনি ৪১ বছর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তিনি আর্থাইটিসেরও পেশেন্ট, যে কারনে তার হাঁটু ও কোমড়ে আছে তীব্র ব্যাথা। আর এই ব্যাথাতেই তিনি গত ৭/৮ বছর যাবত ভীষন কষ্টে আছেন। তিনি এখন কারো সাহায্য ছাড়া একাকী চলাফেরা করতে পারেন না। এমনকি বিছানা থেকে উঠতে গেলেও তার কারো সাহায্য লাগে।

এমন একজন মানুষকে মাত্র এই ৩ মিমিটের জন্য এতটা কষ্ট দেয়ার কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো? তারা তো জানেন যে, তারা স্বাক্ষী হাজির করতে পারছেন না। আল্লামা সাঈদীকে এতেটা পথ পাড়ি দিয়ে না এনেও তো তারা নতুন আরেকটি তারিখ নির্ধারন করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেন নি। আমি আগেও বহুবার বলেছি, ১০ বছর পর এই মামলাগুলি আবার সচল করার কারনই হলো আল্লামা সাঈদীকে শারিরীক ও মানসিকভাবে দূর্বল করা। তাকে কষ্ট দেয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চারিতার্থ করা ও তার চরিত্রহননের হীন উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কিছু নয়।

আমি ও আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী সকাল ৯টা থেকেই আাদালতের বাইরের রাস্তায় আব্বার সাথে সাক্ষাতের আশায় অপেক্ষমান ছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে আব্বার সাথে সাক্ষাত তো দূরের কথা, আদালতেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। আব্বাকে বহনকারী কালো কাঁচে ঘেরা সাদা গাড়িটির দিকে শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম।

মনে বড় কষ্ট নিয়ে ফিরে এসেছি। তবু আমরা হতাশ নই। কারন আমরা জানি, জালিমের সকল জুলুমের মোকাবিলায় আমার আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট।