ডিগবাজির অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন আবদুল আওয়াল মিন্টু?

বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আবদুল আওয়াল মিন্টু। কিন্তু গত কিছুদিন ধরেই তিনি এক ধরণের নীরবতা পালন করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার যোগাযোগ আস্তে আস্তে তিনি শিথিল করে ফেলেছেন। কেন তার এই নীরবতা এবং বিএনপির সঙ্গে তার কেনই বা এই দূরত্ব- এই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আবার একাধিক সূত্র বলছে, এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন। পেঁয়াজ উৎপাদন কীভাবে সারা বছর করা যায়, পেঁয়াজে বাংলাদেশ কীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে- তা নিয়ে একটি প্রতিবেদনও তিনি কৃষি মন্ত্রীর কাছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারের সঙ্গে কি তার নতুন করে সমঝোতা হচ্ছে নাকি তিনি রাজনীতি থেকেই সরে যাচ্ছেন অথবা আরেকটি ডিগবাজির অপেক্ষায় আছেন মিন্টু- এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। কারণ আবদুল আওয়াল মিন্টুকে বিএনপির অন্যতম অর্থদাতা এবং তারেকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারক হিসেবে মনে করা হতো।

বিএনপির মধ্যে যে কয়েকজন জিয়া পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সূত্রে রাজনৈতিক নেতা হয়েছেন তাদের মধ্যে আবদুল আওয়াল মিন্টু অন্যতম। তিনি একাধারে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন। অনেকেই বলেন যে, তারেক জিয়ার অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হলেন আবদুল আওয়াল মিন্টু। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিএনপিতে যে, মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছিল সেখানে দেশে আবদুল আওয়াল মিন্টু তারেকের প্রতিনিধি হিসেবে ছিল বলে অনেকে বলে থাকেন।

তাছাড়া, ২০১৪-১৫ সালে যে অগ্নি সন্ত্রাস গাড়ি পুড়ানো সেই সমস্ত কাজেও মিন্টুকে দায়ী করা হয়। এই সমস্ত নাশকতার কাজে তিনি অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। সেই মিন্টু হঠাৎ করে সুবোধ হয়ে গেলেন কেন সেই নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানা রকম মত পাওয়া গেছে। বিএনপির কেউ কেউ বলছেন, তারেক জিয়ার অত্যাচারেই আবদুল আওয়াল মিন্টু আস্তে আস্তে বিএনপি থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলছেন।

অন্য একটি সূত্র বলছে যে, আসলে আবদুল আওয়াল মিন্টু তার পুত্র তাবিথ আওয়াল কে লাইমলাইটে আনতে চাইছেন। আর এই কারণেই তিনি এখন পড়াশোনা এবং অন্যান্য বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে বিএনপির মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, তারেক জিয়া বা আবদুল আওয়ালের ইস্যু নয়, বরং মিন্টু নিজেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখন ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন। নানা রকম ব্যবসায়িক সমীকরণের জন্য। আবদুল আওয়াল মিন্টু এক সময় আওয়ামী লীগেরও প্রভাবশালী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনার অন্যতম পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। ওই নির্বাচনের পর মন্ত্রী এমপি না হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি ছিলেন। অনেক নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতেন।

২০০১ এর নির্বাচনের আগে অনেক নাটকীয়ভাবে আবদুল আওয়াল মিন্টু খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির নির্বাচন পরিকল্পনাও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন বলে জানা গেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে একইভাবে প্রভাবশালী ছিলেন আবদুল আওয়াল মিন্টু। যদিও ’৯৬ এর মতো ওই সময়েও তিনি কোন পদ পদবী নেননি।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকার আসার সময় আবদুল আওয়াল মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মুক্ত হয়েও তিনি বিএনপি ত্যাগ করেননি। ২০১৩-১৪ সালে আবদুল আওয়াল মিন্টুকে অনেক সক্রিয় দেখা যায়। তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দেশে বিদেশে নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা দাবি করেন।

এই সময়ে আবদুল আওয়াল মিন্টু ভারতের সঙ্গে যেমন দেনদরবার করেছিলেন, তেমনি তিনি গাড়ি পুড়ানো বা সহিংসতার নেপথ্য কারিগর ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই সব অভিযোগ স্বত্ত্বেও আবদুল আওয়াল মিন্টু জেলে না গিয়ে একসঙ্গে সবগুলো মামলায় জামিন পান। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো অজানা কারণে স্তিমিত হয়ে আছে। তবে করোনা সংকটের আগে থেকেই আবদুল আওয়াল মিন্টু নিস্ক্রিয় ছিলেন এবং এই সময়ে তার ছেলেকে রাজনীতিতে বেশী সক্রিয় দেখা যায়। তাহলে কি আবদুল আওয়াল মিন্টু রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন নাকি তিনি আবার নূতন রূপে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন- সেটাই এখন দেখার বিষয়।bangla insider