মেজর হাফিজ বললেন সরকারের পতন ঘটাতে যা করতে বললেন!

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ভোটে নয়, রাজপথেই ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ভোটারবিহীন জালিম সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, ‘যতদিন এই সরকার ক্ষমতায় আছে ততদিন ভোট কেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক যেতে পারবে না।

জনগণের ভোটের মাধ্যমে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের আর সুযোগ নেই, তাই একমাত্র উপায় গণঅভ্যুত্থান।’ সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য এবং গৃহবন্দি থেকে নিঃশর্ত মুক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জ্বল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন,প্রফেসর শাহ আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা একেএম আবুল কালাম আজাদ ও কৃষকদল নেতা কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন।

জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে মেজর (অব) হাফিজ বলেন, ‘জনগণ যদি রাস্তায় নেমে আসে ওই যে আমি বলেছি, দুই লাখ লোক দু’দিন রাস্তায় থাকেন পালিয়ে যাবে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার)। সেই সাহস সঞ্চয় করে আসুন আমরা আগামী দিনে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে রাজপথে আবার নেমে আসি।’

বিভিন্ন উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ কেনো আমরা এই ধরনের নির্বাচনে যাই? যখন নির্বাচনে যাওয়া উচিত না তখন যাই, যখন যাওয়া উচিত তখন যাই না। যে সংসদে যাওয়া উচিত না সেই সংসদে গিয়ে আমরা বসে থাকি। যার জন্য আজকে বিএনপিকে চার‘শ ভোট দেয়। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ওদের প্রার্থী পেয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ভোট আর আমাদের প্রার্থী পেয়েছে ৪‘শ ভোট।”

তিনি বলেন-‘‘আরে বিএনপির এজেন্টই তো হাজারেরও বেশি। আমাদের কোনো এজেন্ট ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন না, কোনো ভোটার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে না এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে না-এই হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র।”
তিনি বলেন, ‘‘ যদি আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী হয়ে থাকি তাহলে আমাদের দলেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।

জিয়াউর রহমানের মত সততা থাকতে হবে, তার মতো সাহসী হতে হবে এবং দেশের স্বার্থে কখনো কোনো ধরনের আপোষ করা যাবে না।”
তিনি বলেন, ‘‘বেগম খালেদা জিয়া আপোষ করেননি। কিন্তু আমরা অনেকে আপস করে বসে আছি। আজকে দূঃখের বিষয় খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী বছরের পর বছর জেলে কাটালেন, আমরা কী করতে পেরেছি?।”

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘দুঃখ লাগে এই সামরিক বাহিনী আমরা সৃষ্টি করেছি। কত সন্মানের পাত্র ছিলো তারা। নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী যেখানে যেতো দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতো। আর এ্খন। গত নির্বাচনের আগের রাতে সব ভোট দিয়ে ফেললো, আর সেনা প্রধান বললেন, এতো ভালো ভোট আমি জীবনে দেখিনি।” তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যে শেষ ভরসার স্থল সেটিও চিন্তাভাবনার বিষয় তাদের অবস্থান কী?

অত্যন্ত দূঃখ লাগে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাক. এই সেনাবাহিনীর জন্য কষ্ট লাগে- আমরা এই সেনা বাহিনী সৃষ্টি করেছি একাত্তর সালে। পাকিস্তান আর্মিতে আমরা যারা ছিলাম আমরা বিদ্রোহ করে মুক্তিবাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গড়ে তুলেছি। গত ৫/৭ বছরে এরা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখনো সাধারণ সৈনিকেরা ভালো আছে, জুনিয়র অফিসার-মিড লেভেল অফিসাররা ভালো আছে।

শীর্ষ পর্যায় কয়েকজন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীকে রাজনীতি মুক্ত চাই। সেনাবাহিনী যেন বাংলাদেশের কোনো দলের সেনাবাহিনী নয়, জনগনের সেনাবাহিনী হয়-এটাই আমরা আশা করি।” তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা বিপ্লব করেছিল। তখন কর্ণেল তাহের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহসী ভুমিকায় সেদিন দেশ ও সেনাবাহিনী রক্ষা পেয়েছিল।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, আওয়ামীলীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। অনেকে মনে করেন বিএনপি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, এটা সঠিক নয়। বিএনপি এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। দিন দিন আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কমছে আর বিএনপির বাড়ছে। দেশের নব্বই ভাগ মানুষ বিএনপির সাথে আছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতাচ্যূত হলে আর জীবনে আর ক্ষমতার মুখ দেখবে না।