এবার মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রসঙ্গে বাকস্বাধীনতা নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পরিষ্কার কথা!

সব ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বাকস্বাধীনতার নামে ইসলাম অবমাননার প্রতিক্রিয়ায় তিনি গতকাল শুক্রবার এ কথা বলেন। কিছু দিন আগে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে অবমাননা করে কার্টুন প্রকাশ করেছে ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদো। এই ঘৃণ্য পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।

এ অবস্থায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আরো বলেছেন, বাকস্বাধীনতা পুরোপুরি লাগামহীন নয়। কোনো কারণ ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত দেওয়া উচিত নয়। সব ধর্মের প্রতি সম্মান জানানো উচিত।

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত ও সর্বশেষ রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (স.)-কে অবমাননা অব্যাহত থাকবে বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতিবাদে গোটা বিশ্বে মুসলমানেরা যখন প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন ঠিক তখনি ট্রুডো এ মন্তব্য করলেন। সূত্র : পার্সটুডে

এইদিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি বছরে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) গত বছরের প্রায় চার ভাগের একভাগ কমবে বলে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক- এখন তা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশকে সুখবর দিচ্ছে ২০২০ সাল। চলতি ২০২০ সালে বাংলাদেশে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিটেন্স আসতে পারে। এখন ভোল পাল্টিয়ে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, প্রবাসী আয় প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ এবছর অষ্টম স্থানে থাকবে।

করোনার কারণে সারা বিশ্বে বিপর্যস্ত অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় কমার শঙ্কা থাকলেও এ বছর বানের ঢেউয়ের মতো প্রবাসীরা তাদের আয় দেশে পাঠাচ্ছেন। ফলে রেমিটেন্স আহরণে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলেছে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কর্মদিবস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে ছিল ৪১.২০ বিলিয়ন ডলার। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই রিজার্ভ পাকিস্তানের চেয়ে তিন গুণ বেশি।

শুক্রবার বিশ্ব রেমিটেন্স পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রকাশিত ‘কোভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রো মাইগ্রেশন লেন্স’ শীর্ষক হালনাগাদ প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, ২০২১ সাল নাগাদ বৈশ্বিক প্রবাসী আয়প্রবাহ ২০১৯ সালের মহামারীপূর্ব পর্যায়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ হ্রাস পাবে। বৈশ্বিক অর্থনীতি যেখানে চলতি বছর সংকুচিত হবে, সেখানে প্রবাসী আয়ও স্বাভাবিকভাবেই কমবে। তবে বৈশ্বিক মহামারী সত্ত্বেও এ বছর বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মেক্সিকোর প্রবাসী আয় বাড়বে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বাড়বে ৮ শতাংশ। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই দেশগুলোর প্রবাসী আয় কমেনি এবং তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবাহ বেড়েছে।

যদিও বিশ্ব ব্যাংক মহামারীর শুরু সময় অর্থাৎ গত ছয় মাস আগে বলেছিল, করোনার কারণে এ বছর বাংলাদেশে রেমিটেন্স ২২ শতাংশ কমে ১৪ বিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। কিন্তু তাদের সেই পূর্বাভাস ধোপে টেকেনি। এখন সুর পাল্টিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২০ সালে ৮ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশে ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসতে পারে। বাংলাদেশে ঈদ ও বন্যার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩.৫ শতাংশ বেড়েছে।

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে যারা টাকা পাঠাননি, তারা যেমন তৃতীয় প্রান্তিকে টাকা পাঠিয়েছেন, তেমনি মহামারীর কারণে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে এখনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থায় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলগুলোর পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল দিয়েও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সচল থাকবে।

এ অঞ্চলের অপর দেশ ভারতের প্রবাসী আয়ে আগের বছরের চেয়ে ৯ শতাংশ কমে যাবে, যদিও পরিমাণের দিক থেকে তারা যথারীতি শীর্ষে থাকবে। প্রবাসী আয়ের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম। প্রথম স্থানে আছে ভারত (৭৬ বিলিয়ন ডলার), দ্বিতীয় স্থানে চীন (৬০ বিলিয়ন ডলার), তৃতীয় স্থানে মেক্সিকো (৪১ বিলিয়ন ডলার)।

তবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি হচ্ছে ৬.২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে জিডিপি ২৩ শতাংশ নিয়ে প্রথম স্থানে আছে নেপাল, ৯.১ শতাংশ নিয়ে পাকিস্তান দ্বিতীয় স্থানে আছে, আর ৮.২ শতাংশ নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান তৃতীয় স্থানে।