লিটন ও ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রেসিডেন্ট কাপের চ্যাম্পিয়ন মাহমুদুল্লাহ একাদশ

বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ ওয়ানডে সিরিজে আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে নাজমুল একাদশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহমুদুল্লাহ একাদশ। বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপের ফাইনাল ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ একাদশের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে নাজমুল একাদশ।

নাজমুল একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান সংগ্রহ করেছে ইরফান শুক্কুর। এছাড়াও মাহমুদুল্লাহ একাদশের হয়ে ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন সুমন খান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের ৬৮ রান, এবং ইমরুল কায়েসের ৫৩ রানের সুবাদে সুবাদে ৭ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাহমুদুল্লাহ একাদশ।

এই দিনে টসে জিতে বোলিং করতে নেমে শুরুতেই উইকেট তুলে নেন ফাস্ট বোলর রুবেল হোসেন। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার সাইফ হাসান কে আউট করেন রুবেল হোসেন।

৫ বলে ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাইফ হাসান। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তর ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় নাজমুল একাদশ। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর টপ উইকেট হারাতে থাকে নাজমুল একাদশ।

দ্রুতই নাজমুল একাদশের তিনটি উইকেট তুলে নেন ফাস্ট বোলার সুমন খান। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় ১২ করে সুমন খানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হন মুশফিকুর রহিম। এরপর ৫ রান করা সৌম্য সরকার এবং ০ রান করা আফিফ হোসেনের উইকেট উইকেট তুলে নেন সুমন খান।

ভালো শুরু করেও এদিন উইকেটে টিকতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় চারটি চারের সাহায্যে ৩২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তবে আজও ব্যাট হাতে হাল ধরেন নাজমুল একাদশের ২ গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর এবং তৌহিদ হৃদয়। ৪৬ বলে ৫ টি চার এবং দুটি ছক্কার সাহায্যে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিনে ইরফান শুক্কুর। তবে তৌহিদ হৃদয়কে বেশি দূর এগোতে দেননি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় ২৬ রান করা তৌহিদ হৃদয়ের উইকেট তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এরপর নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন সুমন খান। ৭ রান করা নাঈম হাসান এর উইকেট তুলে নেন সুমন খান। এরপর দলীয় ১৬০ রানের মাথায় নাসুম আহমেদ এর উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেন সুমন খান।

তবে এক পাশ থেকে একাই লড়াই করে গেছেন ইরফান শুক্কুর। ৭৭ বলে ৮ টিচার এবং দুটি ছক্কা সাহায্যে ৭৫ রান করে রুবেল হোসেনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইরফান শুক্কুর।

সুমন খান ১০ ওভারে ৩৮ রানের বিনিময়ে পাঁচটি উইকেট লাভ করেছেন। এছাড়াও রুবেল হোসেন দুটি, মাহমুদুল্লাহ, এবাদত হোসেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট লাভ করেছেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় মাহমুদুল্লাহ একাদশ। দলীয় ১৮ রানের মাথায় ৪ রান করে ফাস্ট বোলার আলামিন হোসেনের বলে আউট হবে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুমিনুল হক। এরপরে ৪৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন লিটন দাস এবং মাহমুদুল হাসান জয়।

দলীয় ৬৬ রানের মাথায় ১৮ রান করে নাসুম আহমেদ এর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে অন্য প্রান্ত থেকে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। দুই প্রান্ত থেকে দ্রুতগতিতে রান করতে থাকেন লিটন দাস এবং ইমরুল কায়েস।

দলীয় ১২৯ রানের মাথায় ৬৯ বলে দশটি চারের সাহায্যে ৬৮ রান করেন নাসুম আহমেদ এর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন দাস। লিটন দাসের আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে তাণ্ডব চালাতে থাকেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ইমরুল কায়েস ৫৫ বলে ৫৩ এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১১ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

টস : বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে আজ নাজমুল একাদশের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাহমুদুল্লাহ একাদশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস (সহ অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক সৌরভ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান রুম্মন, মেহেদী হাসান মিরাজ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, সুমন খান, এবাদত হোসেন চৌধুরী (সুপার সাব), মোহাম্মদ রুবেল হোসেন ও মাহমুদুল হাসান জয়।

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার (সহ অধিনায়ক), মোহাম্মদ সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মুশফিকুর রহিম, তৌহিদ হৃদয়, ইরফান শুক্কুর (উইকেটরক্ষক), তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, আবু জায়েদ রাহি (সুপার সাব), নাসুম আহমেদ ও নাইম হাসান।