সরে যাচ্ছেন ফরিদপুরের ডিসি?

ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকারকে অন্যত্র বদলী করা হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এতথ্য জানিয়েছে। ফরিদপুরে একজন সংসদ সদস্যের সংগে সৃষ্ট বিরোধের জের হিসেবে তিনি আলোচনায় আসেন। একটি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় ফরিদপুরে। এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের এম.পি মুজিবর রহমান চৌধুরী তাকে টেলিফোন করেন। জেলা প্রশাসক দাবী করেছেন যে, সংসদ সদস্য তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেছেন।

ডিসি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের এমপি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এবং কাজে বাধা দিয়েছেন। এরপর জেলা প্রশাসক ফরিদপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপির আচরণের সমালোচনা করা হয়। ঐ বৈঠকের কার্যবিবরনী পাঠানো হয় ঢাকায় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস এলোসিয়েশনের কাছে।

স্থানীয় সরকার সচিবের সভাপতিত্বে এসোসিয়েশনের বৈঠকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে হুমকি দেয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়। এর নিন্দা জানানো হয় এবং ফরিদপুর-৪ আসনের এমপির বিচার দাবি করা হয়। নির্বাচন কমিশনও এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করে।

ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন এমপি নিক্সন চৌধুরী। জামিন আবেদন করতে গিয়ে, নিক্সন চৌধুরীর আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, ‘জেলা প্রশাসক টেলি আলাপ রেকর্ড করে আইন লংঘন করেছে।’ এর ফলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধির বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একজন জেলা প্রশাসক কিভাবে একজন জনপ্রতিনিধির কথা রেকর্ড করেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা এই বিতর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না। এর ফলে সারাদেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একারণে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে অন্যত্র বদলীর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্য একটি সূত্র বলছে, যেহেতু নির্বাচন কমিশন একটি মামলা করেছে এবং এই মামলায় জেলা প্রশাসকের ভূমিকা থাকবে, তাই তাকে অন্যত্র বদলী করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, প্রথমে তাকে জনপ্রশাসনে নিয়ে আসা হতে পারে।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার