স’ম্রাটের হাতেই যুবলীগের চাবি!

যুবলীগের চাবি-এক বছর ধরে জেলে আছেন ক্যাসিনো সম্রাট। একাধিক মা’মলা তার বি’রুদ্ধে। কিন্তু এখনও তার কথায় চলে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ। তিনি হলেন, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এসময় আদালত প্রাঙ্গনে দুই হাজারের মতো

নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তারা সম্রাটের পক্ষে শ্লোগান দেন এবং মুক্তি দাবী করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা সেদিন সম্রাটের পক্ষে মিছিলে গিয়েছিলেন, তারা সবাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের নেতা কর্মী। এদের মধ্যে দক্ষিন যুবলীগের কয়েকজন নেতাও ছিলেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবলীগের প্রায় সব নেতাই

সম্রাটের মুক্তির দাবীতে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হয়েছিলেন। যুবলীগের দক্ষিনের বহিস্কৃত সভাপতি হলেও পুরো ঢাকা জুড়েই সম্রাটের কর্মী, সমর্থক ও ক্যাডার রয়েছে। গত বছর সম্রাট গ্রেপ্তার হবার পর থেকে মূলত: যুবলীগের কর্মীরাই সম্রাটের মুক্তির দাবীতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী পালন করছে। তারা ঢাকা শহরে

সম্রাটের মুক্তির দাবীতে পোষ্টার ছাপিয়ে বিলি করেছে। মানববন্ধন করেছে। এক বছর পরও সম্রাটের পক্ষে কর্মীরা কাজ করছে। আর এটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের জন্য নতুন সংক’ট সৃষ্টি করেছে। সম্রাটের প্রথম আওয়ামী লীগ সভাপতির নজরে আসেন আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কে’লেংকারীতে। ২০১৮র সেপ্টেম্বরে

প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলেছিলেন ‘স্রমাট আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে চাঁ’দা দাবী করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন ‘ঐ সংগ’ঠনকে আমি, রেহানা সহযোগিতা করি। এখন তারা একটা ভবন নি’র্মান করছে। আর সেখানে স্র’মাট যেয়ে চাঁ’দা চে’য়েছে।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি তখনই সম্রাটকে

বহিস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুবলীগ সে সময় তার বি’রুদ্ধে কিছুই করেনি। পরের বছর সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বি’রোধি অ’ভিযান শুরু হলে গ্রে’প্তার হয় স্রমাট। এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ থেকে তাকে ব’হিস্কার করা হয়। কিন্তু যুবলীগের এ’কজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন ‘ঢাকা মহানগরে যুবলীগ

মানেই সম্রাটের অনুসারী। শুধু যুবলীগ নয়, এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সম্রাটের একটা ফ্যাক্টর বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। জানা গেছে, সম্রাটের কারণেই যুবলীগের কমিটি গঠনে বি’লম্ব হচ্ছে। কারণ যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ কর্মীদের খুব একটা চেনেন না।

আবার, সাধারণ সম্পাদক নিখিল জানেন, যুবলীগে সম্রাটের প্রভাবের কথা। তাই যুবলীগের নতুন কমিটি ‘স’ম্রাট মুক্ত’ করতে চান তারা। কিন্তু সম্রাট অনুসারীরা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ এবং স’ম্রাটের প্রতি সমর্থন জানায়। কর্মী বি’বেচনায় যুবলীগের চাবি এখনও সম্রাটের হাতেই বলে মনে করেন অনেকেই।banglainsider