নোয়াখালীর সেই নির্যাতিতা নারীর একটি বাক্য আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে,যা শ্রেষ্ঠ মোটিভেশান

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সেই নির্যাতিতা নারীর একটি বাক্য আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে,যা আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মোটিভেশান! নিজে সুখে থেকে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে মোটিভেট করা দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ কাজ যা আজকাল মোটিভেশনাল স্পীকাররা হামেশাই করে থাকেন কিন্তু নিজের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত ও অবিচল থেকে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারার মতো প্রাকটিক্যাল মোটিভেশান দিতে ক’জন সক্ষম!!

গ্রামের অতি সাধারণ একজন নারীর কাছে সবচেয়ে দামী বস্তু তাঁর সতীত্ব ও সম্মান! সেই একমাত্র সম্পদই যখন পুরো পৃথিবীর সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায়, তখন তার বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন থাকে কি?!

লক্ষ মানুষের আইডল সেলিব্রেটিরা ঠুনকো কারণে একের পর এক সুইসাইড করে বিশ্বকে হতাশ করছে অথচ এ মহিয়সী নারীর দৃঢ়তা আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়! তার এই প্রেরণার উৎস কোথায়,বলতে পারেন!?

“ (অন্য কোনো) মেয়ে হলে/ছেলে হলে বিষ খেতো, গলায় দড়ি দিতো! এই দুনিয়াতে কিসের কষ্ট, আখিরাতে অনেক কষ্ট,আমি আখিরাতের কামাই চাই!” অতি সাধারণ আঞ্চলিক ভাষায়, নিম্নমানের শব্দচয়নে, ভনিতা বা লৌকিকতা মুক্ত যে কথাগুলো তিনি বলেছেন তাতে ভাবনার গভীর খোরাক রয়েছে! বুকে হাত দিয়ে বলুনতো আমরা ক’জন পারতাম তার মতো করে কথাগুলো বলতে?!

হ্যা এটাই ঈমান! এটাই সেই প্রেরণার শ্রেষ্ঠ বাতিঘর,যা জীবনের সকল পরিস্থিতিতে নতুন করে বাঁচতে শেখায়! যা আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার শ্রেষ্ঠ মোটিভেশানও বটে! ঈমানের চেতনা ধারণকারী প্রতিটি হৃদয় বিশ্বাস করে, তাঁর মনের কষ্টগুলো অন্তত একজন বোঝে,যার কাছে মনের কথাগুলো উজাড় করে বলা যায়,

নিভৃত কান্নার গুনগুন আওয়াজ ৭ আসমান পেরিয়ে পৌছায় সেই সত্তার নিকট যিনি বন্ধুর মতো মনের কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন আবার শ্রেষ্ঠ অভিভাবকের মতো যিনি সমাধানও দিতে সক্ষম! যার মতো দয়ালু ও ক্ষমতাবান বন্ধু আর কেউ নেই! তিনিই আমাদের “আল্লাহ”!
অল্পতেই ভেঙে পড়া,হতাশা, ডিপ্রেশন, আল্লাহর প্রতি নানা অভিযোগ, সামান্য কষ্টে নিজেকে দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ হতভাগ্য মানুষ মনে করা ইত্যাদি এখন অতি সাধারণ বিষয়!

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে,বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও! মানুষের কনফিডেন্স ও আত্মশক্তি হ্রাসের কারণে সাইকোলজিস্টরা নানাভাবে কাউন্সিলিং করেও খুব বেশি সফল হতে পারছেন না! ‘ডিপ্রেশন’ শব্দটার ব্যবহার এখন প্রায় জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে! এ ধারা অব্যাহত থাকলে মানসিকভাবে অসুস্থ একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র! আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের একমাত্র সমাধান! লেখক : Abdullah Arman (জনপ্রিয় ফেইসবুক পাঠশালা রাইটার )