কোটিপতি ব্যাবসায়ী থেকে সিএনজি ড্রাইভার। একজন প্রতারক স্বামী-স্ত্রীর সাথে প্রতারনার পরিণতি…

ছবিতে যাকে দেখছেন সে আমার স্বামী মৃদুল। হ্যাঁ ভাগ্য আমাকে ওনার স্ত্রী বানিয়ে ছিলো। এক সময় ওনার নিজের অনেক কিছুই ছিলো। অভাব বলতে কি কখনো অনুভব করেনি।

১৫ জুন ২০১২ তে পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয় মৃদুলের সাথে । তখন আমি ইন্টারের ছাত্রী। মা-বাবা ছেড়ে অজানা এক পরিবারে যেয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো। মৃদুল আমাকে মানিয়ে নিতে অনেক সাহায্য করে।

শশুর – শাশুড়ী আর স্বামী নিয়ে সংসারে ভালোই ছিলাম। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ায় কোনোদিন রান্না করিনি। শাশুড়ী আম্মা ধীরে ধীরে শিখাতে থাকে।

বিয়ের ছয়মাস পর মৃদুল অফিস থেকে হুট করে ছুটি নেয়। আমাকে না জানিয়েই সকালে হুট করে রেডি হতে বললো। আমি ভাবলাম হয়তো কোন সারপ্রাইজ দিবে। হ্যাঁ! অনেক বড় সারপ্রাইজ যা আমি কখনো আশা করি নাই।

ঘুড়তে যাই দুইজন মিলে কক্সবাজারে। অনেক ঘোরাঘুরি করি বেশ আনন্দও হয়। তবে হঠাৎ করেই মৃদুলের সাথে এক মেয়ের দেখা। কথা বলার ভঙ্গিতে মনে হলো আগের পরিচিত।

ইস ফিস করে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে আমার চেয়ে ও খুব কাছের একজন। আমার সাথে পরিচয় করাতে একটু অন্য রকম ব্যবহার করলো, আমার একটু খারাপ লাগে। এইসব কিছু মাথায় না নিয়ে, সেখানে মজা করাকেই প্রাধান্য দিলাম।

তবে, সেইদিন বুঝেছিলাম মৃদুল আমাকে খুশি করতে কক্সবাজার নিয়ে আসে নি। কোন মাধ্যমে প্রাক্তন প্রেমিকার সন্ধানেই আসছে। বেশ কয়েক বার আমাকে হোটেলে রেখে দুই তিন ঘন্টার জন্য বাহিরে চলে যায়।

এভাবেই অনেক কস্টে একদিন পার করি। আমাদের রুম নাম্বার ছিলো ৬৭। প্রাক্তনের রুম নাম্বার ৭৪। রাত ১১টা সময় আমাকে না বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে পরে।

রাত ২ টায় প্রাক্তনের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় পুলিশের কাছে ধরা পরে। দুজনকে সাজিদুর রহমান নামে এক অফিসার সার্চ করে। বাচাঁর জন্য স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেয়।মৃদুলের হাতের ফোনটা পুলিশ চেক করে।

my wife কন্টাক নাম্বারে কল দিলে আমার কাছে চলে আসে। সব কিছু শুনার পর থানায় যায়। পুলিশের কাছে আকুতি মিনতি করে ভোর পাঁচটায় মৃদূলকে ছাড়িয়ে হোটেলে ফিরে আসি।

আমি আর বাধা হয়ে দাড়াইনি। আমি আমার রুমে একা শুয়ে পড়ি, আমার স্বামী প্রাক্তনের সাথে অন্য রুমে। এ যেন এক নারীর জীবিত আত্মার দাফন হলো। পরের দিন আমরা বাসায় ফিরে আসি।

মৃদুলের প্রাক্তনের সাথে পুরোনো প্রেম জমে উঠে। মধ্যরাতে প্রতিদিন ফোন আসে,আমাকে রুমে রেখে অন্য রুমে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও কলে নোংরামি করে। ভাবা যায় আমি মেয়ে হয়ে বর্তমান বউ হয়ে কি করে সব মেনে নেই।

সহ্য না করতে পেরে অনেক বুঝলাম কিন্তু ঠিক হলো না। পুরানো প্রেমের গতিটা অনেক বেশি যা আমার ধৈর্য সীমা রাখেনি। ব্যর্থ হয়ে ১২ জানুয়ারি ২০১৩ মৃদুলকে ছেড়ে চলে আসি।

একাই জীবন শুরু করলাম মা-বাবার সাথে থেকে একটা চাকরি করতে লাগলাম।ভেবেছিলাম হয়তো মৃদুল ভুল বুঝতে পেরে আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। না আসলো না। এমনকি খোঁজও নিলো না। ২১ মার্চ ২০১৩ আমাকে ডিভোর্স লেটার পাটায়। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে text করি Thank you – নতুন জীবনে শুভ কামনা ভালো থেকো।

২২ এপ্রিল মৃদূল প্রাক্তনকে নিয়ে সংসার শুরু করে। দুই বছরের সংসারে কখনো শান্তির ছিটেফোঁটা ও পাইনি। শাশুড়ি আম্মা মাঝে মাঝে ফোন করে সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করতো।

মা বলেই সম্মান করে যোগাযোগ করতাম। হঠাৎ মৃদুলের ব্যবসায় বড়সড় একটা লস হয়। টাকা-পয়সা কিছুই থাকে না শূন্য হয়ে যায়। বাপের যা ছিলো সব কিছু বিক্রি করে ঋন পরিশোধ করে। প্রাক্তনের কাছে ধীরে ধীরে অপ্রিয় হয়ে উঠে। অভাবের মাঝে ভালোবাসার দুফোটা বির্য দ্বিতীয় বউকে ও রাখতে পারেনি।

বুঝতে পারছেন নিয়তি কাকে কোথায় নিয়ে যায়।২০১৬ সালে একজন কোটিপতি ব্যাবসায়ী থেকে এখন একজন সাধারন cng ড্রাইভার। আজ ২০২০ এসে হঠাৎ চলতে পথে দেখা। প্রতারক কখনো ভালো থাকতে পারে না। কোন না কোন ভাবেই ধীরে ধীরে ক্ষয় হবে। হতে হবেই কারন উপরে একজন আছেন তিনি সব দেখেন। ওনার বিচার ওনি ধীরে ধীরে করেন👌

©নিলাশা ইসলাম প্রিয়া