‘অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে স্বেচ্ছায় ফাঁসি নেব’- নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ। প্রধানত, তাঁকে (মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী) আমি পতিতা বলে হুমকি দিয়েছি। যদি প্রমাণ করতে পারে, স্বেচ্ছায় ফাঁসি নেব।

দ্বিতীয়ত, যদি প্রমাণ করতে পারে, তাঁর সঙ্গে আমার নীলক্ষেতে দেখা হয়েছিল বা মীমাংসার জন্য তাঁর সঙ্গে নীলক্ষেতে বসেছিলাম। এই দুটো অভিযোগের একটাও যদি প্রমাণ করতে পারে, স্বেচ্ছায় ফাঁসি নেব। লাইভে এসে বললাম।’

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক লাইভে এসে নুর এসব কথা বলেন। লাইভে ডাকসুর সাবেক ভিপি দুটি মামলার অভিযোগ খণ্ডন, মামলার বাদী ও তাঁর অনশন নিয়েও কথা বলেন।

ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান সোহাগের বিষয়ে নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি, আবারও বলছি, হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান সোহাগের দায়ভার আমরা নেব না। কারণ হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান সোহাগের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানি না। হাসান আল মামুন বলেছেন, তাঁরা একই বিভাগের ছাত্র, তাঁর সঙ্গে তাঁর (ছাত্রীর) পরিচয় ছিল। কিন্তু ধর্ষণ বা শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে কি না- এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমাদের কাছে কিছুই বলেননি। যেহেতু তাঁর সাথে পরিচয় ছিল, সেখানে কিছু হতে পারে, সেটা একেবারেই উড়িয়ে দেব না। আবার হাসান আল মামুন মেয়েটিকে চিনতেন বলেও স্বীকার করেছেন।’

‘আর মেয়েটির ভাইও বলেছিল, নাজমুল হাসান সোহাগ তাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। তাদের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তাও পাকাপোক্ত হয়েছিল। তবে আমাদের সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, ডাকসুর ভিপি নুর, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ হিল বাকি ও নাজমুল হুদা- এই চারজনের ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন – ছাত্র অধিকার পরিষদের (সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান, নুরুল হক নুর, মো. সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকি। মামলায় নুরকে করা হয় তিন নম্বর আসামি।

মামলার পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নুরকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা শেষে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার ৬ সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহননের অভিযোগে শহবাগ থানায় সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করেন ওই ঢাবি ছাত্রী।

এরপর গত ৮ অক্টোবর নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনে বসেন ওই ঢাবি ছাত্রী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। এ রকম একটি পরিপ্রেক্ষিতেই ডাকসুর সাবেক এই ভিপি গতকাল ফেসবুক লাইভে আসেন।তথ্যসূত্র:সময়ের কণ্ঠস্বর