নেইমারের রেকর্ডের দিনে ব্রাজিলের কাছে পাত্তাই পেলনা পেরু…

পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছিল নেইমার জুনিয়রকে। এক গোল করতে পারলে ছুঁতে পারবেন কিংবদন্তি রোনালদো দ্য লিমাকে আর দুই করতে পারলে তাকে টপকে বনে যাবেন ব্রাজিলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

পেরুর রাজধানী লিমাতে হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলকে জেতালেন ২-৪ গোলের ব্যবধানে আর সেই সঙ্গে ব্রাজিলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও বনে গেলেন হালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করে শীর্ষ স্থান দখল করে আছেন কিংবদন্তি পেলে। সেলেকাওদের জার্সিতে তার গোল সংখ্যা ৭৭টি। আর রোনালদো লিমার এতদিন ৬২ গোল করে ধরে ছিলেন দ্বিতীয় স্থান। পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৬১ গোল করে তৃতীয় স্থানে ছিলেন নেইমার। ম্যাচে প্রথমে এক গোল করে নেইমার স্পর্শ করেন এই কিংবদন্তীকে, দ্বিতীয় গোল করে টপকে যান রোনালদো লিমাকে আর হ্যাটট্রিক করে পেলের রেকর্ড ৭৭ গোলের আরও কাছে চলে যান এই সুপারস্টার।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের সকল মহাদেশের বিশ্বকাপ বাছাই স্থগিত হলেও দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শুরু হয়েছে। ক্লাব ফুটবলের বিরতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠে গড়িয়েছে গত সপ্তাহে। আর কনমেবল চালিয়ে যাচ্ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাই। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে পেরুর মুখোমুখি ব্রাজিল। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রাজিলের সহজ জয়ই ধরে নিয়েছিল অনেকে। তবে ম্যাচের স্কোরলাইন যাইই বলুক না কেন ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি সহজ ছিল না।

ম্যাচের ২৬ মিনিটে নেইমারের উদ্দেশে উড়ে আসে একটি ক্রস, তবে বলটি ধরতে ব্যর্থ হন নেইমার। কেননা বল ধরতে গেলে তার জার্সি ধরে ডি বক্সের ভেতরেই ফেলে দেন পেরুর মিডফিল্ডার ইয়োশিমার ইয়োটান। আর সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারে। স্পট কিক থেকে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান নেইমার।

ডি-বক্সে পিএসজি ফরোয়ার্ডকে পেরুর মিডফিল্ডার ইয়োতুন জার্সি টেনে ধরে খেলতে বাধা দেওয়ায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

তিন মিনিট পর আবারও জালে বল পাঠিয়েছিলেন নেইমার। তবে আক্রমণের শুরুতে রিশার্লিসন অফসাইডে থাকায় বেশ খানিকটা সময় নিয়ে ভিএআরের সাহায্যে গোল দেননি রেফারি। ৪১তম মিনিটে ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে সতীর্থের ক্রস পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে দলের হতাশা বাড়ান ফিরমিনো।

কিছুটা সৌভাগ্যসূচক গোলে ৫৯তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় পেরু। তাদের এই গোলটির শুরুও কিছুটা প্রথমটির মতো। ইয়োতুনের লম্বা থ্রো ইন হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দেন রদ্রিগো কাইয়ো। ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো ভলি মারেন রেনাতো তাপিয়া। সামনে একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

এ যাত্রায় গোল শোধ করতে একটুও দেরি করেনি ব্রাজিল। ৬৪তম মিনিটে নেইমারের দূরের পোস্টে নেওয়া কর্নারে ফিরমিনোর হেডে বল লক্ষ্যেই ছিল। আরও নিশ্চিত হতে গোললাইনের মুখ থেকে টোকায় বল জালে জড়ায় এভারটন ফরোয়ার্ড রিশার্লিসন। অফসাইড ছিল কি-না, দীর্ঘক্ষণ ভিএআরে দেখে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।

৭৭তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ নষ্ট হয় ব্রাজিলের। এভেরতনের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে খানিক আগে বদলি নামা এভেরতন রিবেইরো শরীরটাকে ঘুরিয়ে যে শট নিলেন তা লক্ষ্যের ধারেকাছেও ছিল না।

৮৩তম মিনিটে নেইমারের আরেকটি সফল স্পট কিকে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডি-বক্সে এই তারকাই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় তারা।

(বিস্তারিত আসছে)