ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাক দায়ী:অনন্ত জলিল,বয়কট করলেন শাওন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শনিবার (১০ অক্টোবর) ধর্ষকদের শাস্তি চেয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সেখানে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানান তিনি।ভিডিওটিতে অনন্ত দাবি করেন, ‘নারীর পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী, যা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।’

অনন্ত জলিলের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। অনেক তারকা হতাশা প্রকাশ করেছেন সিনেমার একজন নায়ক এবং দেশের প্রথম শ্রেণির একজন ব্যবসায়ী হয়েও কেমন করে নারীর পোশাককে তিনি ধর্ষণের জন্য দায়ী মনে করতে পারেন। অভিনেত্রী, পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন অনন্তকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।

অনন্ত জলিল তার বক্তব্যে ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা ধর্ষণ করছো, তোমাদের কারণে সাধারণ মানুষ সারা দেশে আন্দোলন করছে এতে করে বিঘ্নিত হচ্ছে মানুষের জীবন যাপন। তোমাদের স্ত্রী কন্যাকে কেউ যদি ধর্ষণ করে কেমন লাগবে তোমাদের? তুমি তো একটা অমানুষ! তোমার হয়তো ভালোই লাগবে, না হলে অন্যের মা-বোনকে তো রেপ করতে পারতে না। তোমার যে মনুষত্ব সেটা তো মরে গেছে।’

অনন্ত জলিল দেশের সকল মেয়েদের উদ্দেশ্যে ‘ভাই’ হিসেবে কিছু কথা বলেন। বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি শরীর আচ্ছাদনের কথাও বলেন এসময়। নারীদের পাশ্চাত্য দেশের পোশাক ‘ফলো করে’ তা পরিধানে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, এইসব ড্রেস-আপ দেখে চেহারার দিকে না তাকিয়ে বখাটেরা তোমার ফিগারের দিকে তাকায়, এরপর বিভিন্ন মন্তব্য করে, এবং রেইপ করার চিন্তা তাদের মাথায় আসে।

‘মডার্ন’ জামাকাপড়ের কথা তুলে জলিল বলেন, তোমরা কি নিজেদের মডার্ন মনে করো? অ্যাঁ? এটা কি মডার্ন ড্রেস? না অশালীন ড্রেস। এটা মডার্ন ড্রেস হতে পারে না। মডার্ন ড্রেস হবে যেখানে ফেস দেখা যাবে যেটা আল্লাহতায়লা দিয়েছেন। কিন্তু যে বডিটা আছে সেখানে শালীনভাবে পোশাক পরতে হবে। নিজেকে পাশের একজন ভদ্রমেয়ের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখো, তোমাকে কত বাজে লাগে দেখতে।

নারীদের টিশার্ট পরার কারণে ‘ইজ্জত শেষ’ হয়ে যায় উল্লেখ করে অনন্ত এই ভিডিওতে আরো বলেন, ছেলেদের মত একটা টিশার্ট পরে বের হয়ে যাও, মডার্ন মেয়ে তুমি! খুব মডার্ন! তারপর ইজ্জত শেষ করে আত্মহত্যা করো না হয় মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারো না, এটা কি মডার্ন? শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে যাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তাভাবনা আছে তারা তোমার দিকে শ্রদ্ধার দিকে তাকাবে। এরপর চোখ নিচের দিকে নিয়ে নেবে।

ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদনও জানান তিনি। অনন্ত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনি আমাদের অভিভাবক। এই সব অমানুষদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড আইন ও তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে হবে। আপনার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে আপনি কখন নির্দেশ দেবেন।’

রোববার শাওন (১১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি লিখেছেন, আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য জনাব অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম।তার এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।তথ্য সূত্র: পূর্ব পচ্ছিম