শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে যা বললেন আশরাফুল

বয়স ৩৬ হলেও এখনো জাতীয় দলের হয়ে একবার হলেও খেলার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল। সেজন্য নিজের পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নিয়মিত। কিন্তু দলে সুযোগ কিংবা সুযোগের সম্ভাবনা কোনটাই দেখা যাচ্ছেনা।

প্রায় ৭-৮ মাসের বিরতি কাটিয়ে টাইগাররা ক্রিকেটে ফিরতে পারে শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে। আর এই সফরের প্রাথমিক দলেও জায়গা হয়নি আশরাফুলের। লঙ্কানদের বিপক্ষে সবচেয়ে সফল হওয়াতেও সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন টাইগার সাবেক এই অধিনায়ক। এর জন্য অবশ্য দেশের ক্রিকেটের কালচারকেই দায়ী করেছেন তিনি।

নিজের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজ থেকে বৃহস্পতিবার ভক্তদের সঙ্গে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে যুক্ত হয়েছিলেন আশরাফুল। সেখানেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে একপর্যায়ে আক্ষেপ ঝড়ে আশরাফুলের কণ্ঠে, ‘আমাদের এই কালচারটা হয়নি যে, ৩৬ বছরের কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে চিন্তা করা।

যদিও এটা অন্য দেশ হলে শ্রীলঙ্কা সিরিজেই হয়তো আমাকে চিন্তা করত। যেহেতু শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাঁচটা সেঞ্চুরি, যেহেতু এই ৬-৭ মাস ক্রিকেট খেলা হয়নি। সবাই তো শূন্য থেকেই শুরু করেছে…। ’

তবে এতেও হাল ছাড়ছেন না বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এই টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, ‘আমাকে হয়তো বা ঘরোয়া ক্রিকেটে এক্সট্রা-অর্ডিনারি পারফরম্যান্স করেই আসতে হবে। সেটার জন্য আমি তৈরি আছি। সবাই দোয়া করবেন যেন আমি সেই জায়গায় সুযোগ পাই। ওই জায়গায় সুযোগ না পেলে আবার কঠিন। ’

ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল আশরাফুলকে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আশরাফুল আবার ফেরার স্বপ্ন দেখেন শুধু নিজের জন্য তা নয়। মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার তাড়না তার মধ্যে।

‘আমি খুব ভাগ্যবান মনেকরি নিজেকে…। সাত বছর জাতীয় দলের বাইরে। তারপরও যেভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে মানুষেরা আমাকে এখনো সাপোর্ট করে যাচ্ছেন, এটা আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনেকরি। সেই কারণেই এখনো আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’-

বলছিলেন আশরাফুল।ক’রোনাকালে বেশ কিছু দিন ঘ’রবন্দী থাকতে হয়েছে। বিরতি কাটিয়ে আশরাফুল ফিটনেস এবং স্কিল ট্রেনিং করে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যার ভিডিও শেয়ার করছেন ভক্তদের জন্য। তার সেই ভিডিওগুলোই বলে দেয় আশরাফুল আসলে কতটা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসটাও এখন বেড়েছে বলে জানান আশরাফুল, ‘২০১৯ এর নভেম্বরে আমার যে ফিটনেস ছিল, আর এখন ২০২০ এর সেপ্টেম্বরে যে ফিটনেস, আমি মনেকরি তিন-চার বছর সহজেই যে কোনো লেভেলে সার্ভিস দিতে পারব। যেহেতু আমি ব্যাটসম্যান। ’

‘হয়তো আগে আ’ত্মবিশ্বাস ছিল যে একদিন খেলব, সবার আশা পূরণ করব। কিন্তু এখন আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেশি। আমি মনেকরি এটা সম্ভব। এখন শুধু খেলার অপেক্ষা। ’

আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য আশরাফুল তিন ফরম্যাটের মধ্যে টেস্টকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে বললেন, ‘আমার এখন প্রথম লক্ষ্য একটাই, লঙ্গার ভার্সন দিয়ে যেন ঢুকতে পারি। কারণ ওই জায়গাটায় আমি মনে করি আপনি যদি ঢুকতে পারেন, তাহলে চাপটা অনেক কম। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে একটা চাপ থাকে, তাড়া থাকবে রানের। টেস্ট ক্রিকেটে কিন্তু সেই তাড়াটা থাকবে না। সেট হলে লম্বা ইনিংস খেলা সম্ভব। আমি যেন আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে ফিরতে পারি, সেটাই লক্ষ্য। ’