রাসূল (সা:) এর একডজন প্রিয় খাবার

প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.) এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তার গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এসব খাবার প্রিয়নবী (সা.) আহার করতেন। দেড় হাজার বছর পর আজকের বি’জ্ঞান গ’বেষণা করে দেখেছে নবীজী (সা.) এর বিভিন্ন খাবারের গু’ণাগুণ ও উপাদান অ’ত্যন্ত যথাযথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবীজী (সা.) এর খাবারের মধ্যে রয়েছে বা’র্লি, খেজুর, ডুমুর, আঙ্গুর, মধু, তরমুজ, দুধ, মাশরুম, অলিভ অয়েল, ডালিম-বেদানা, ভিনেগার ও পানি। এসব খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো।

(১) বার্লি (জাউ) : এটা জ্ব’রের জন্য এবং পে’টের পী’ড়ায় উপকারী।

(২) খেজুর : খেজুরের গু’ণাগুণ ও খা’দ্যশ’ক্তি অপরিসীম। খেজুরের খা’দ্যশ’ক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীল সতেজ রাখে। প্রিয়নবী (সা:) বলতেন, যে বাড়িতে খেজুর নেই সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই। এমনকি প্রিয়নবী (সা.) স’ন্তান প্রস’বের পর প্র’সূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরা’মর্শ দিয়েছেন।

(৩) ডুমুর : ডুমুর অ’ত্যন্ত পু’ষ্টিকর ও ভেষ’জগুণস’ম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অ’ত্যন্ত উপযোগী খাবার।

(৪) আঙ্গুর : প্রিয়নবী (সা.) আ’ঙ্গুর খেতে অ’ত্যন্ত ভালো বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শ’ক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তা’ৎক্ষণিক এ’নার্জি পাই এবং এটা স্বা’স্থ্যের জন্য উপকারী। আ’ঙ্গুর কি’ডনির জন্য উপ’কারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ই’রিটেবল বাওয়েল সি’নড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।

(৫) মধু : মধুর নানা পু’ষ্টিগুণ ও ভে’ষজ গু’ণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান করা ডা’য়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাক’স্থলীর স’মস্যা, হেয়ার ক’ন্ডিশনার ও মাউথ ও’য়াশ হিসেবে উপকারী।

(৬) তরমুজ : সব ধরনের তরমুজ স্বা’স্থ্যের জন্য উপকারি। প্রিয়নবী (সা.) তরমুজ আহারকে গু’রুত্ব দিতেন। যেসব গ’র্ভবর্তী মায়েরা তরমু’জ আহার করেন তাদের স’ন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পু’ষ্টি, খাদ্য ও ভে’ষজগুণ এখন স’র্বজনবিদিত ও বৈ’জ্ঞানিক সত্য।

(৭) দুধ : দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভে’ষজগুণ বর্ণনাতীত। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বি’জ্ঞান যখন অ’ন্ধকারে তখন প্রিয়নবী (সা.) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মে’রুদণ্ড- সবল হয়, ম’স্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃ’ষ্টিশ’ক্তি ও স্মৃ’তিশ’ক্তি প্রখর হয়। আজকের বি’জ্ঞানিরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এর ক্যা’লসিয়াম ও ভিটামিন ডি অ’স্থিগঠনে সহায়ক।

(৮) মাশরুম : আজ বিশ্ব জুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পু’ষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী (সা.) জানতেন মাশরুম চোখের জন্য ভালো। এটা বার্থ ক’ন্ট্রোলে সহায়ক ও মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা না’র্ভ শক্ত করে এবং শ’রীরের প্যা’রালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।

(৯) জলপাই তেল : অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পু’ষ্টিগুণ অনেক। গবেষণায় দেখা গেছে অ’লিভ অয়েল ত্ব’ক ও চুলের জন্য উপকারী এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বি’লম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পা’কস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।

(১০) ডালিম-বেদানা : বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, এটা আ’হারকারীদের শ’য়তান ও ম’ন্দ চি’ন্তা থেকে বি’রত রাখে।

(১১) ভিনেগার : ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। প্রিয়নবী (সা.) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজকের এই ম’র্ডান ও বি’জ্ঞানের অ’ভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্টে বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

(১২) খাবার পানি : পানির অপর নাম জীবন। পানির ভে’ষজগুণ অ’পরিসীম। প্রিয়নবী (সা:) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বা’স্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা বি’জ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।