বাড়তে পারে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা হল ৩০ বছর। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও প্রবেশের এই বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছে। কিন্তু সরকার নানা রকম বাস্তবতার কারণে চাকরিতে প্রবেশের এই বয়সসীমা বাড়াতে আগ্রহী ছিল না।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সেশন জট ছিল না। সেইসাথে বিসিএস পরীক্ষাও নিয়মিত হচ্ছিলো। সেইসাথে সবকিছু মিলিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হবে- এই রকম ভাবনাও সরকারের মধ্যে ছিল। কিন্তু করোনা সংকটের ৬ মাসে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার কারণে কর্ম কমিশন ও সরকারের নীতি নির্ধারকরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। একাধিক কারণে এই ধরণের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা যায়।

প্রথমত, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নিয়োগের জন্য যে বিসিএস পরীক্ষা তা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছে সরকারি কর্ম কমিশন। এই সময়ের মধ্যে অন্তত দুইটা বিসিএস পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা হয়নি। এর ফলে, যারা পাশ করেছে এবং যারা চাকরির জন্য আবেদন করবে তাদের বয়সসীমা নিয়ে ইতোমধ্যে জটিলটা তৈরি হয়েছে।

সবকিছু স্বাভাবিক হলে দেখা যাবে, অসংখ্য শিক্ষার্থী চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছে না। এতে করে একটা চাপ তৈরি হবে। অনেকেই হয়তো বাদ পড়বেন। একাধিক বিসিএস হলে তাদের এভাবে বাদ পড়ার সম্ভাবনা কম থাকত। চাকরির বসয়সীমা বাড়ানো হলে অনেকেই সুযোগ পাবে। বয়সের জন্য যারা বাদ পড়বে, তারাও অংশগ্রহণ করতে পারবে।

দ্বিতীয়ত, এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে সামনের দিনগুলোতে একটা সেশন জট (বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষায়) তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে শিক্ষা জীবন শেষ করা ও ডিগ্রি পাওয়া নিয়ে একটা সংকটে পড়েছে। এই কারণে অনেকেই হয়তো চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে বয়সের জটিলতায় পড়বে।

তৃতীয়ত, সরকার সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য প্রচুর পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। বেশি নিয়োগ হলে বেকারত্ব কমবে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারি খাতে যদি নিয়োগের ব্যাপ্তি বাড়ানো যায়, তাহলে এক ধরণের চাপ কমবে। সেইসাথে অর্থনৈতিক গতি প্রবাহও তৈরি হবে। এই ধরণের চিন্তা-ভাবনা থেকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩২ বছর করার আলোচনা চলছে। তবে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। সরকার আরও কিছুদিন এই বাস্তবতা দেখবে তারপর হয়তো এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে।