অনলাইনে ভাইরাল মেজর সিনহার গাড়ি চালানোর (ভিডিও)

আমার ছেলে বা’স্তবের একজন নায়ক ছিল। সে সা’হসের সাথে মৃ’ত্যুকে বরণ করেছে। সে কোনো কা’পুরুষ ছিলো না। একজন জাতীয় বীর ছিল। সে ছিল একজন সত্যিকারের প্রেরণাদাতা।

আমাদের সকল আ’ত্মীয়, সব ব’ন্ধু তার কাছ থেকে জীবনের উৎ’সাহ পেতো। সে সবসময়ই হা’স্যজ্জল এক চ’মৎকার মানুষ ছিল, যে সবসময়ই মানুষের মু’খে হাসি ফোটাতে এবং অন্যদের সুখী করতে চে’ষ্টা চালাতো।

অপরের সুখের জন্য জীবন উৎ’সর্গ করাই ছিল তার অ’ন্যতম ব্র’ত। আমাকে বিন্দুমাত্র জি’জ্ঞাসা না করেও আমার সকলে আরামের দিকে তার পু’ঙ্খানুপু’ঙ্খ নজর ছিলো।

চাকরির কারণে তার পো’স্টিং যেখানেই হোক না কেন আমি যাতে ভালো থাকি, আরামে থাকি সে নিয়ে তার চে’ষ্টার অ’ন্ত ছিল না। বাড়ির প্রতিটা কাজে আমাকে সা’হায্য করতো।

সবকাজ সবসময়ই নিজে নিজেই করে আমাকে সবসময় চ’মকে দেওয়ার কাজটা সে খুব ভালো পারতো। আমাদের বাড়ির প্র’তিটি কো’ণা, প্রতিটি দেয়াল সে নিজের হাতে সাজিয়েছিল।

তার বাবার মৃ’ত্যুর সময় আমাদের বাড়িটা দুইতলা ছিল। কিন্তু যখন সে এ’সএসএফে পো’স্টিং পেল (তার ১৬ বছরের সামরিক জীবনে যে একটি মাত্র সময়েই সে ঢাকায় পো’স্টিং পেয়েছিল)। তখনই সে হাউজ বিল্ডিং থেকে ঋ’ণ নিয়ে ক’ঠোর প’রিশ্রম করে আমাদের বাড়িটা চারতলা করে। এই নি’র্মাণ কাজের তদারকি করার জন্য সে অ’ধিকাংশ সময়ই রাতে আসতো। যেহেতু এস’এসএফের দা’য়িত্বে ব্য’স্ততা অ’ত্যন্ত বেশি থাকায় এছাড়া সময় পেত না।

আমার ছেলেকে তার কোন ইচ্ছের বি’রুদ্ধে আমি আ’টকে রাখি নাই, কোন সম’য়েই না। যা যা সে করতে চেয়েছে আমি স্বা’ধীনতা দিয়েছি। অবশ্য সে আমাকে সব’সময়ই বুঝিয়ে ফেলতে স’ক্ষম হতো কোন না কোন ভাবে। আমাকে না বুঝিয়ে সে একটা কাজও করেনি। সে সবসময়ই আমার অনু’মতি নিয়ে নিত সেই কাজগুলোর জন্য যেগুলো তাকে সুখী করতে পারে। যাতে তার ভালো লাগে। সেই কাজগুলোতে আমার সবসময়ই সায় ছিল।

সে ছিল একজন মু’ক্তিযো’দ্ধার স’ন্তান। দেশকে যে নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসতো। আমার ছেলে ছিল ‘দৃ’ঢ় ব্য’ক্তিত্বের অ’ধিকারী। সে স’মুদ্র ভালোবাসতো। স’মুদ্র সৈকতে বই পড়তে পড়তে সময় কাটাতে চাইতো। শৈ’শব থেকেই আমার ছেলে অ্যা’ডভে’ঞ্চারের ভক্ত ছিল। সারা বিশ্ব ভ্রমণের এক প্র’গাঢ় সাধ ছিলো তার, যে জন্য বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী থেকে সে স্বে’চ্ছায় অবসর নিয়েছিল। আমি তাকে নি’ষেধ করি নাই। তার হি’মালয়ে যাবার স্ব’প্ন ছিল। ছেলেটা হা’ইকিং প’ছন্দ করতো, জা’পানে একটা সাইকেল ট্যু’রে যেতে চেয়েছিলো। চাকুরি থেকে অবসরের পরপরই সে তার এই স্ব’প্নগুলো ছোঁয়ার জন্য প্র’স্তত হচ্ছিল।

এর মাঝে ক’রোনা ম’হামা’রি চলে এলো। দেশব্যপী ল’কডাউন শুরু হবার কদিন পরে সে জানালো যে, তাকে নিয়মিতই বাহিরে যা’তায়াত করতে হয়, এবং আমি একজন ব’য়স্ক মানুষ, তাই তার এই চলাফেরা আমার জন্য বেশি ঝুঁ’কিপূ’র্ণ হয়ে যাচ্ছে। এরপর সে বলল যে, রাজশাহী যাবে কিছুদিনের জন্য, সেখানে তার এক ব’ন্ধুর মা (যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক’র্মরত ছিলেন) এক বিশাল লাইব্রেরী করেছেন। ছোট থেকেই সে প্রচুর বই পড়তো। তাই তাকে আমি যেখানে যেতে দিলাম। বললাম প্রচুর পড়াশোনা করতে। সে রাজশাহীতে প্রায় চার মাস ছিল এবং আস্তে আস্তে নিজেকে বিশ্ব ভ্র’মণের জন্য প্র’স্তত করছিল। আমার ছেলেটার তী’ব্র ভ্রম’ণের নে’শা ছিল। যখন সে জা’তিসংঘে শা’ন্তিরক্ষা মিশনে ছিল, ছুটিতে বাংলাদেশে আ’সতো না। তার বদলে দুই মাসের ছুটিতে ইউরোপ যেয়ে গাড়ী করে হাজার হাজার মাইল ড্রাইভ করে নিজে নিজে ঘুরেছিল। এটা আমার খুব ভালো লেগেছিল কারণ ছেলেটা অ’ন্তত নিজের একটা স্ব’প্ন পূরণ করতে পেরেছিল। আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল এই সি’দ্ধান্তের প্রতি।

চাকরি থেকে অবসর নেবার পর প্রতি রাতে সে আমার ম’শারি টা’ঙ্গিয়ে দিত। আমার সকল ঔ’ষধপত্র নিজে নিজেই সা’জিয়ে গু’ছিয়ে রাখতো, যাতে আমার বুঝতে বি’ন্দুমাত্র স’মস্যা না হয়। যখনই বাড়ির বাহিরে যেত, সবসময়ই নিজের চাবি নিয়ে যেত, যাতে আমাকে বি’রক্ত না করতে হয় দরজা খোলার জন্য।

রাজশাহী থেকে ফিরে মাত্র ক’দিন আমার সাথে ছিল। এবং তারপর ক’ক্সবাজারে এক মাসের জন্য থেকে একটা ত’থ্যচিত্র নি’র্মাণের প’রিকল্পনা জানালো। আমি স’ম্মতি দিয়েছিলাম। সে বিয়ে করেনি, আর আমিও তার স্বা’ধীনতায় হ’স্তক্ষেপ করতে চাইনি।
২৬ জুলাই ছিল ওর জ’ন্মদিন। অ’নলাইন সা’র্ভিসের মাধ্যমে সে যে রি’সোর্টে ছিল সেখানে এক বা’ক্স চকলেট পাঠিয়ে ছিলাম। কোর’বানির ঈদের সময় ছেলেটা আমাকে কক্সবাজারে যেয়ে ওর সাথে ঈদ করতে বলছিল, কারণ ত’থ্যচিত্রের শু’টিংয়ে নাকি আরও কয়েকদিন সময়ের দরকার ছিলো। অ’সুস্থতার কারণে আমার যাওয়া হয়ে উঠেনি।

৩১ জুলাই রাত ১১টায় আমি ছেলেকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু ফোন কেউ ধরে নাই। অ’বশেষে পুলিশ আমাকে ফোন করে আদনানের (মেজর সিনহার ডাকনাম) মৃ’ত্যুসংবাদ দেয়। আমার ছেলে একজন শ’হীদ। এ’কজন বীরের র’ক্ত এবং মা’য়ের অশ্রু বৃ’থা যেতে পারে না। আশা করি পরম ক’রুণাময় তাকে জা’ন্নাতে আশ্রয় দিবেন। আমিন।

শ’হীদ মেজর (অবঃ) সিনহার ড্রাইভিং স্কিল।ভিডিওতে দেখুন