অবশেষে বেরিয়ে আসলো শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নি’র্যাতনের ভ’য়াবহতা

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অ’মানুষিক নি’র্যাতন ও মা’রপিটে তিন কিশোর নি’হত ও ১৪ জন আ’হতের ঘ’টনায় ক্ষো’ভে ফুঁ’সছেন স্ব’জনরা। তারা ওই কে’ন্দ্রের কর্মকর্তাদের অ’ত্যাচা’র-নি’র্যাতনের নানান চিত্র তুলে ধরছেন। মুখ খুলেছে আ’হত বন্দি কি’শোররাও। হ’তাহ’তদের স্ব’জনদের কা’ন্নায় যশোর ২৫০ শয্যা হা’সপাতালের পরিবেশ ভা’রি হয়ে উঠেছে।

শিশু উন্নয়ন কে’ন্দ্রে হ’তাহ’তের ঘ’টনায় ওই কেন্দ্রের ১০ ক’র্মক’র্তা, ক’র্মচারীকে জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হে’ফাজতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও স’মাজসেবা অ’ধিদফতর একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও আ’নসার স’দস্যদের অ’মানুষিক নি’র্যাতন ও মা’রপিটে তিন কিশোর নি’হত হয়। আ’হত হয় আরও অ’ন্তত ১৪ জন। ওইদিন দুপুরে এ ঘ’টনা ঘটলেও স’ন্ধ্যারাতে ম’রদেহ হাসপাতালে আনার পর ঘটনা জানাজানি হয়। প্রথমে শি’শু উন্নয়ন কে’ন্দ্রের ক’র্মক’র্তারা এটিকে দুই পক্ষের সং’ঘর্ষের ঘ’টনা দাবি করলেও পরবর্তীতে নি’র্যাতনের বিষয়টি প্র’কাশ্যে আসে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊ’র্ধ্বতন ক’র্মকর্তাও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নি’শ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কি’শোরদের দুই গ্রু’পের মধ্যে মা’রামা’রি হয়। সি’সিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ঘ’টনায় জ’ড়িতদের চি’হ্নিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে ক’র্মকর্তাদের উপ’স্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নি’র্দেশে কয়েকজন কিশোর অ’ন্তত ১৮ জনকে বে’ধড়ক মা’রপিট করেন। মা’রপিট ও নি’র্যাতনে অ’সুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। কয়েকজন অ’চেতন থাকায় তারা অ’জ্ঞান হয়ে গেছে মনে করেন। তবে পরে বুঝতে পারেন তিনজন মা’রা গেছে। এরপর স’ন্ধ্যারাতে এক এক করে তাদের মর’দেহ হাসপাতালে এনে রাখা হয়।

নি’হতরা হচ্ছে- বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) এবং খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮)।

নি’হত রাব্বির রে’জিস্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৩। আর রাসেল ও নাঈমের রে’জিস্ট্রেশন নম্বর য’থাক্রমে ৭৫২৪ ও ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধ’র্ষণ এবং রাব্বি হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি ছিল।

এদিকে ঘ’টনার পর রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি ব’ন্দি কি’শোররা তুলে ধরেন তাদের ওপর নি’র্যাতনের বর্ণনা। তারা জানান, ঘ’টনার সূত্রপাত ৩ আগস্ট। ঈদের দুদিন পর। শি’শু উন্নয়ন কে’ন্দ্রের আনসার সদস্য নূর ইসলাম কয়েকজন কি’শোরের চুল কে’টে দিতে চান। কিন্তু কি’শোররা চুল কা’টতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক’র্মকর্তাদের কাছে অ’ভিযোগ করেন- ওই কি’শোররা নে’শা করে। এর প্র’তিবাদে ওই দিন কয়েকজন কি’শোর তাকে মা’রপিট করে।

আ’হত কি’শোরদের দাবি, ওই ঘ’টনার সূত্র ধরেই বৃ’হস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৮ জন ব’ন্দিকে রু’ম থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর বিকেল ৩টা পর্যন্ত পা’লাক্রমে তাদেরকে লা’ঠিসো’টা, র’ড ইত্যাদি দিয়ে বে’ধড়ক মা’রপিট করা হয়। এভাবে মা’রপিটের পর অ’সুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। পরে তিনজন মা’রা গেলে স’ন্ধ্যারাতে তাদের মর’দেহ য’শোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চি’কিৎসা’ধীন বন্দি চুয়াডাঙ্গার পাভেল বলে, ৩ আগস্টের ঘ’টনার পর বৃ’হস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে আমাদের অফিসে ডাকা হয় এবং এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আমরা ঘ’টনার সবকিছু জানানোর এক পর্যায়ে শিশু উন্নয়ন কে’ন্দ্রের সহকারী ত’ত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্র’বেশন অফিসার মুশফিকসহ অন্যান্য স্যা’ররা মা’রপিটে অংশ নেন।

আ’হত আরেক ব’ন্দি কিশোর নোয়াখালীর জাবেদ হোসেন বলে, স্যা’ররা ও অন্য ব’ন্দি কি’শোররা আমাদের লো’হার পা’ইপ, বাটাম দিয়ে কু’কুরের মতো মে’রেছে। তারা জানালার গ্রিলের ভেতর আমাদের হাত ঢু’কিয়ে বেঁ’ধে মু’খের ভেতর কা’পড় দিয়ে এবং পা বেঁধে মা’রধর করেন। অ’চেতন হয়ে গেলে আ’মাদের কাউকে রু’মের ভেতর আবার কাউকে বাইরে গাছ তলায় ফেলে আসেন। জ্ঞা’ন ফিরলে ফের একই কা’য়দায় মা’রপিট করেছেন।

যশোরের ব’সুন্দিয়া এলাকার ব’ন্দি মারুফ হোসেন ঈষান বলে, নি’হত রাসেল আর আমি একই রুমে থাকতাম। আগামী মাসেই তার জা’মিনে মু’ক্তি পাওয়ার কথা ছিল। স্যা’রদের বে’দম মা’রপিট আর চি’কিৎসা না পেয়ে সে মারা গেছে।

তার অ’ভিযোগ- প্র’বেশন অ’ফিসার মা’রধরের সময় বলেন, তোদের বেশি বাড় বেড়েছে। জে’ল প’লাতক হিসেবে তোদের বি’রুদ্ধে মামলা করে ক্র’সফা’য়ারে দেয়া হবে।

ঈষানের মামা রমজান আলী জানান, ইতোপূর্বেও শিশু উন্নয়ন কে’ন্দ্রে নি’র্যাতন-মা’রপিটের ঘ’টনা ঘ’ছে। জানালার বাইরে হাত বের করে ধরে রেখে পেছনে বে’ধড়ক পে’টানো হয়েছে।

নি’হত পা’রভেজের চাচা সেলিম রেজা জানান, তারা পারভেজ হ’ত্যার বিচার চান। বৃহস্পতিবার সকালেও পারভেজ ফোন করে তার মাকে বলেছে, ঈদের সময় পাঠানো জামাকাপড়, মাং’স সে পায়নি। সেখানে ঠিকমত খাবার দেয়া হয় না। কথায় কথায় মা’রপিট করা হয়। এজন্য বাড়ি ফিরতে সে মা’য়ের কাছে আ’কুতিও জানিয়েছিল। এখন লা’শ হয়ে বাড়ি ফিরছে পারভেজ।

শুধু পারভেজ নন অন্য নিহতদের স্ব’জনরাও শু’ক্রবার ভি’ড় করেছিলেন যশোর ২৫০ শ’য্যা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে। সেখানে তাদের আ’হাজারিতে এক হৃ’দয় বি’দারক প’রিস্থিতি তৈরি হয়।

য’শোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, দু’ইপক্ষের ব’ক্তব্যে প্রাথমিকভাবে নি’শ্চিত হওয়া গেছে সং’ঘর্ষে নয়, মা’রপিটেই তিনজন নি’হত ও ১৪ জন আ’হত হয়েছে। কে’ন্দ্রের মধ্যে কেউ অ’পরাধ করলে সেখানে অ’ভ্যন্তরীণ শা’স্তির রে’ওয়াজ আছে। সেটি ক’রতে গিয়ে এ ঘ’টনা ঘটতে পারে। বিষ’য়টি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

তিনি বলেন, এ ঘ’টনায় কে’ন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী ত’ত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সা’ইকো সো’স্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমানসহ ১০ জন ক’র্মকর্তা-কর্ম’চারীকে জি’জ্ঞা’সাবাদের জন্য পুলিশ হে’ফাজতে নেয়া হয়েছে। মা’মলার প্র’ক্রিয়া চলছে।

এর আগে বৃহ’স্পতিবার গ’ভীর রাতে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বের হয়ে পুলিশের খুলনা রে’ঞ্জের অ’তিরিক্ত ডি’আইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি একটি প্র’তিষ্ঠানে ম’র্মান্তিক ও অ’নাকা’ঙিক্ষত ঘ’টনা ঘ’টেছে। আমরা যারা অ’পরাধ নিয়ে কাজ করি, তারা ঘ’টনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে বি’ষয়টি অ’বহিত হয়েছি। যে কারণে মূল ঘটনা জানা জ’টিল ও স’ময়সা’পেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁ’ড়িয়েছে।

তিনি বলেন, যারা আ’হত হয়ে হাসপাতালে চি’কিৎসা’ধীন, তারাই এই ঘ’টনার মূল সাক্ষী। মৃ’ত্যুপ’থযাত্রী কেউই মি’থ্যা কথা বলে না। তাদের কথার স’ত্যতা ও যৌ’ক্তিক’তা রয়েছে। আমাদের অ’নুস’ন্ধানে তাদের বিষয় গু’রুত্ব পাবে।

একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে আ’সলে সং’ঘর্ষের ঘট’না ঘ’টেনি। আজকের ঘ’টনাটি এক প’ক্ষীয়।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, কীভাবে এই কিশোররা হ’তাহ’ত হলো তা ত’দন্ত করে দেখা হচ্ছে। ত’দন্তের পরই পুরো বিষয়টি প’রিষ্কার হবে।

এদিকে য’শোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন ব’ন্দি নি’হত ও অ’ন্তত ১৪ জন আহতের ঘট’নায় দুই স’দস্যের ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছে সমা’জসেবা অ’ধিদফতর। শু’ক্রবার (১৪ আগস্ট) প্র’তিষ্ঠানটির মহা’পরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম স্বা’ক্ষরিত চিঠিতে এই ক’মিটি গঠন করা হয়। তিন ক’র্মদিবসের মধ্যে স’রেজ’মিনে ত’দন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ত’দন্ত কমিটির দুই সদস্য হলেন- স’মাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ মো. নূরুল বাসির ও সমাজসেবা অধিদফতরের উপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এমএম মাহমুদুল্লাহ।