রাতের আধারে নারীদের তুলে নিয়ে যেতেন প্রদীপ

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অ’ত্যা’চারে অ’তিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী। ই’য়াবাপ্র’বণ এলাকা হওয়ায়, মা’দকবি’রোধী অ’ভিযানের দো’হাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে করা হতো হ’য়রানি। শুধু তাই নয়, এসব থেকে বাদ যায়নি নারীরাও।

আ’সামিদের প’রিবারের নি’রপরাধ নারী সদস্য ও আসামি পরিবারের বাইরে সাধারণ না’রীদের থানায় তুলে এনে নি’র্যাতন করার অ’ভিযোগ ওঠে তার বি’রুদ্ধে। শুধু তাই নয়, না’রীদের যৌ’ন নি’র্যাতনের অ’ভিযোগও আছে তার বি’রুদ্ধে। সিনহা হ’ত্যা ঘ’টনায় গ্রে’প্তার হওয়ার পর এক-এক করে বেরিয়ে আসছে তার এমন নানা অ’পক’র্মের তথ্য। তবে এখনো নি’র্যাতিত নারীরা মুখ খুলতে ভ’য় পাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় অনেকের সঙ্গে, কেউ কেউ মা’নহা’নির কথা চিন্তা করে যৌ’ন নি’র্যাতনের মতো ঘ’টনাগু’লো গো’পন রাখছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, গত বা’ইশ মাসে শতাধিক না’রীকে থানায় তুলে নিয়ে নি’র্যাতন করেন তিনি। তারা বলছেন, ফি’ল্মস্টাই’লে চলাফেরা করতেন ওসি প্রদীপ।

গত বছরের ঘ’টনা। রাত দু’টা। না’জিরপাড়ায় একটি বাড়িতে এসে হানা দেন ওসি প্রদীপ। সেইদিন রাতে ওই বাড়ির তিন ম’হিলাকে তুলে নিয়ে যান তিনি। ঘুম থেকে তুলে থানায় নিয়ে যান ওই পরিবারের দুই পু’ত্রবধূকে। এরপর তিন নারীকে ত্রিশ হাজার ইয়াবা দিয়ে গ্রে’প্তার দে’খান তিনি।

এর আগে তাদের গা’য়ে হাত তো’লাসহ শ্লী’লতাহা’নির অ’ভিযোগ তুলেছেন ভু’ক্তভো’গীরা। গতকাল স’রেজমিনে গিয়ে কথা হয় ভু’ক্তভো’গীদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে একজন বৃ’দ্ধ নূর বেগম। তিনি বলেন, ‘গত বছরর একদিন রাত দুইটায় ওসি প্রদীপ আমাদের বাড়িতে আসে তার পুলিশ নিয়ে।

এরপর আমার ছেলে জিয়াউর রহমানকে খুঁ’জে। আমি তাদেরকে খোঁ’জার কারণ জানতে চাইলে ওসি তার হাতের অ’স্ত্রটি দিয়ে আমার মাথায় আ’ঘাত করে। পরে আমি আর কিছু বলতে পারবো না। একদিন পর দেখি আমি সদর হাসপাতালে। আমাকে গ্রে’প্তার দেখিয়ে পুলিশ নিজে হা’সপাতালে ভর্তি করিয়েছে।’

ওই নারীর ছোট ছেলে, প্রবাসী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বড় ভাই ল’বণ ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানকে খুঁ’জতে আসে পুলিশ। তখন আমার ভাই ব্যব’সার কাজে গোপালগঞ্জে ছিল। আমার ভাইকে না পেয়ে আমার মা ও আমার দুই ভা’বীকে তারা ধরে নিয়ে যায়।

আমার দুই ভা’বীকে তারা অ’শ্লীল নানান ই’ঙ্গিত দেয়। এতে রা’জি না হওয়ার তারা আমাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে এসআই স’ঞ্জিতের মাধ্যমে। এতো টাকা তখন আমাদের কাছে ছিল না। পরে ছয় লাখ টাকা ম্যানেজ করে দিলেও তারা আমার ভা’বী ও মাকে ৩০ হাজার ইয়াবা দেখিয়ে গ্রে’প্তার করে।’

এখানেই থেমে থাকেনি ওসি প্রদীপের কু’কর্ম। তাদের পরিবারের বড় ছেলে জিয়াউর রহমানকে গো’পালগঞ্জ থেকে টেকনাফে নিয়ে ক’থিত ক্র’সফায়ার দিয়ে মে’রে ফেলার অ’ভি’যোগ মিলে। কামাল হোসেন বলেন, ‘এখান থেকেও ক্র’সফায়ার না দেয়ার কথা বলে পনেরো লাখ টাকা নিয়ে যায়। তা’রপরও ক্র’সফায়ার দেন ওসি প্রদীপ। আমাদের বাড়িটি তারা ভে’ঙেচুরে সব লু’টপা’ট করে নিয়ে যায়।’

স’রেজমিনে গিয়েও মিলে এমন দৃশ্য। তবে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, ওই ব্যক্তির বি’রুদ্ধে থানায় মা’মলা ছিল। কিন্তু না’রীদের কোনো দো’ষ ছিল না। তবে পরিবারসূত্র অ’ভিযোগ করেন, ওসি ইচ্ছা করেই তাদের বি’রুদ্ধে মা’মলা সা’জিয়েছে ঘু’ষ নেয়ার জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষাও হলো না তার। এদিকে চলতি বছরের ২৬ শে জু’লাইয়ের ঘ’টনা।

টেকনাফের ম’ণ্ডলপাড়ায় ইউনুসের স্ত্রী হাসিনা আ’ক্তারকে রা’তের বেলায় নি’র্যাতন করে গ্রে’প্তার করার অ’ভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ ক’র্মকর্তার বি’রুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে খোঁ’জ নিয়ে জানা গেছে, ও’য়ারেন্টভুক্ত এক আ’সামিকে জা’য়গা দেয়ার অ’ভিযোগে তাকে আ’টক করেন টেকনাফ থানা পুলিশ। প্র’ত্যক্ষদ’র্শীরা বলেন, তখন সেখানে কোনো নারী পুলিশ স’দস্যের উপ’স্থিতি ছিল না। পুরুষ পুলিশ সদস্যরাই তাকে নানানভাবে শা’রীরিক নি’র্যাতন করে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর তাকে এক হাজার ইয়াবা দিয়ে গ্রে’প্তার দেখানো হয়। এবং তার বাড়িটি পুলিশ আ’গুন লা’গিয়ে পু’ড়িয়ে ফেলে। একই ঘ’টনায় পাশের গ্রাম মৌলভীপাড়ার আরো দু’ইজনকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের মধ্যে মিনি টমটম চালক আব্দুল মোত্তালেব ও তার বোন রহিমা আক্তারকে সা’ক্ষী দেয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চে’ষ্টা করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের বাড়িটি ভা’ঙচুর চা’লানো হয়। কিন্তু রহিমা খাতুন পুলিশের সঙ্গে না যেতে চাইলে মরিচের গুঁ’ড়া তার নাকে-মুখে ছি’টিয়ে দেয়। পরে ওই নারীকে অ’সুস্থ অ’বস্থায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এই অভি’যানে ওসি প্রদীপের নে’তৃত্বে উ’পস্থিত ছিল পুলিশ সদস্য সা’গর, স’ঞ্জিত দত্ত ও রু’বেল।

পরে আব্দুল মোত্তালেবের শ্বশুর নূরুল ইসলাম থানার দালাল মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে তিন লাখ টাকা পুলিশ সদস্য সাগরের হাতে দিলেও ছাড়া পাননি কেউ। উ’ল্টো দুইজনকে দুই হাজার ইয়াবা দিয়ে গ্রে’প্তার দেখায় টেকনাফ থানা পুলিশ। সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকার না’রীদেরকে শুধু তুলে নিয়ে যাওয়াই নয়, যখন-তখন তাদেরকে শা’রীরিক নি’র্যাতন করার অ’ভিযোগ রয়েছে টেকনাফ থানার পুলিশের বি’রুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, অনেক না’রীকে যৌ’ন হ’য়রানির অ’ভিযো’গও আছে ওসি প্রদীপের বি’রুদ্ধে। তেমনি একজন টেকনাফ পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড অলিয়াবাদ গ্রামের একজন নারী যৌ’ন হ’য়রানির অ’ভিযোগ তুলেছে ওসি’র বি’রুদ্ধে। অ’ভিযোগ রয়েছে, ওই এলকার একজন বাসিন্দাকে ওসি’র লোকজন টাকা দাবি করে নি’য়মিত হু’মকি-ধ’মকি দিত। টাকা না দেয়ার কারণে তিন মাস আগে ওসি নিজে তাদের বাড়ি ঘর ভে’ঙে দেন। ওই দিন, বাড়ির মালিকের ছেলের স্ত্রী’র ঘরে ঢুকে দ’রজা বন্ধ করে দেন ওসি। সেই সময় তিনি পরিবারের লোকজনদের সরি’য়ে দেন। অ’ভিযোগ ওঠে ওই নারীকে ওসি প্র’দীপ শ্লী’তহা’নীর চেষ্টা করেন। কি’ন্তু শ্লী’লতাহা’নী না করতে পেরে তাকে মা’রধর ও লা’থি দেন তিনি।

নাজির পাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়াকে হ্নী’লা থেকে আ’টক করে ক’থিত ক্র’সফায়ার দেন ওসি প্রদীপ। গত বছরের র’মজান মাসে তাকে আ’টক করে বিশ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি’র ডান হাত বলে পরিচিতি এএসআই স’ঞ্জিত। রাতের মধ্যে টাকা জোগাড় করলেও রা’তেই তাকে ক্র’সফা’য়ার দেয়া হয়। দুদু মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আ’ক্তার অ’ভিযোগ করে বলেন, ‘আমি স’ঞ্জিতের পায়ে পড়েছিলাম। তখন সে আমাকে লা’থি দিয়ে ফেলে দিয়েছে।

ওসি’র কাছে গিয়েছিলাম। উল্টো আমাকে হু’মকি-ধ’মকি দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। এর আগে ৫০ লাখ টাকা চেয়েছিল পুলিশ। পরে দশ লাখ টাকায় রাজি হয়। কিন্তু একদিনের মধ্যেই গরু মহিষ বিক্রি করে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে দিলেও রাতের মধ্যেই মে’রে ফেলে আমার স্বামীকে। স্বামীকে মা’রার পর ওসি’র লোকজন বিভিন্ন সময় আমাকে হু’মকি-ধ’মকি দিয়ে আসছে। বলেছে এসব বিষয়ে কথা বললে, আমাদেরও একই অ’বস্থা হবে।’ এখানেই থেমে থাকেনি ওসি’র অ’পকর্ম। দুদু মি’য়াকে ক্র’সফায়ার দিয়ে একই মা’মলায় আ’সামি করা হয় তার বড় ভাই স্কু’লশিক্ষক সৈয়দ আলম ও ছোটভাই প্রবাসী সোনা মিয়াকে। একই মা’মলায় গত বিশদিন ধরে জেল খাটছেন সোনা মিয়া। তিনি বলেন, ‘কি কারণে আমার ভাইকে ক্র’সফা’য়ার দিলো আজও তা জানতে পারলাম না। উল্টো আ’মাকে আ’সামি করে দিল।’

bd24live