আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে আঃলীগ,জেনে নিন বর্তমানে কত কোটি টাকার মালিক দলটি…

নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০১৯ পঞ্জিকা বর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দলটি।চআওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এই হিসাব জমা দেন নির্বাচন কমিশনে।

জমা দেয়া হিসাবে বলা হয়েছে, মোট এ অর্থের মধ্যে নগদ আছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৭ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ৫০ কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৬ টাকা, যার মধ্যে ৪০ কোটি টাকার এফডিআর।

এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ২০১৯ পঞ্জিকা বছরে দলটির আয় হয়েছে ২১ কোটি ২ লাখ ৪১ হাজার ৩শ ৩০ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা।

২০১৯ সালে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৮৩৮ টাকা। সব মিলিয়ে দলটির তহবিল দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯৩ টাকা। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়।

জমা দেয়া হিসাব থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তহবিলে নগদ ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৮ টাকা। সেসময় ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৩৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭০ টাকা। ২০১৮ সালে সর্বমোট অর্থ ছিল ৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৮৩৮ টাকা।

২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে সর্বমোট ২১ কোটি ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৩০ টাকা । এ সময়ে যেসব খাত থেকে আয় হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নমিনেশন ফরম বিক্রি ১২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

সম্মেলন বাবদ প্রাপ্ত ৩ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা। ব্যাংক লভ্যাংশ বাবদ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৩ টাকা। সংসদ সদস্যদের প্রদেয় চাঁদা বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মাসিক চাঁদা, জেলাভিত্তিক প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ চাঁদা ও প্রাথমিক সদস্য ফরম, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হল-ভাড়া, পত্রিকা প্রকাশনা ও বিজ্ঞাপন (উত্তরণ) এবং পুস্তক বিক্রিসহ অন্যান্য খাত থেকে বাকি আয় হয়েছে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যয় হয়েছে সর্বমোট ৮ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা। এ সময়ে যেসব খাতে ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন বাবদ ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা।

কর্মচারীদের বেতন, বোনাস, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০০ টাকা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ ব্যয় ১ কোটি ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৫ টাকা। সভাপতির কার্যালয়ের ভাড়া বাবদ ৫৫ লাখ টাকা।

এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা অফিস, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রাণ কার্যক্রম, উত্তরণ পত্রিকা প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জেলা জনসভা ও দলীয় অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা, বিজ্ঞাপন ও পোস্টার প্রকাশনা বাবদ, সাংগঠনিক খরচ, ৫ কার্যালয়ের সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য খাতে বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে।