জানলে অবাক হবেন ফাহিম কে মা’রার পর যেভাবে সময় পার করছিলেন টাইরিস হ্যাসপিল

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহকে (৩৩) খু’নের ঘ’টনায় ২১ বছরের তরুণ টাইরিস হ্যাসপিলকে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ। এরপর খু’নি স’ম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ফাহিমকে হ’ত্যার দুই দিন পর তার ক্রে’ডিট কার্ড ব্যবহার করে বেলুন কিনেছে ঘা’তক।

তার বান্ধবীর ২২তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য ২২ লেখা দুটি বেলুন কিনে সে। ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটের প্রায় এক মাইলের কম দূরত্বের ক্র’সবি স্ট্রি’টের একটি অ্যা’পার্টমেন্টের সামনে তিনি বেলুন ধরে আছেন। তার সঙ্গে এক নারীকেও দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিউ’ইয়র্ক পোস্টের কাছে এই খু’নিকে ‘আমেরিকার নতুন সা’ইকো’ হিসেবে আ’খ্যায়িত করেছেন।

ফাহিম সালেহকে হ’ত্যার পরও তার ক্রে’ডিট কার্ড ব্যবহার করছিলেন হ্যাসপিল। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে উবার পরিবহনের ভাড়া মিটিয়েছেন হোম ডিপোট নামের দোকানে ই’লেকট্রিক করাত কেনার জন্য যাওয়া–আসার সময়। ক্রে’ডিট কা’র্ডের সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে শ’নাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং ১৭ জুলাই সকালে ক্র’সবি স্ট্রি’টের অ্যা’পার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে।

১৭ জুলাই মধ্যরাতে ম্যানহাটনের ক্রি’মিনাল কো’র্টে হা’সপিলের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করা হয়। এ সময় প্রসি’কিউটররা জানান, ইতিমধ্যে খু’নিকে দো’ষী প্রমাণের জন্য ‘প’র্যাপ্ত আলামত’ পাওয়া গেছে। নজরদারি ক্যা’মেরায় ধা’রণকৃত ফু’টেজ দেখে এসব আলামত শ’নাক্ত করা হয়েছে। ম্যানহাটনের অ্যা’সিসট্যান্ট ডি’স্ট্রিক্ট অ্যা’টর্নি লিন্ডা ফোর্ড বলেন, ভিডিওতে হ্যা’সপিলকে একটি হোম ডিপো থেকে করাত ও প’রিষ্কার করার উপকরণ কিনতে দেখা গেছে।

ঘটনা’স্থল থেকে সে উপকরণগু’লোই সং’গ্রহ করা হয়েছে। নজরদারি ক্যা’মেরা ফুটেজে হ’ত্যাকারীর গায়ে যেমন পোশাক ছিল সে রকম পোশাক হাসপিলের ব্রু’কলিনের বাড়িতে পাওয়া গেছে। এছাড়া ডিজিটাল প’দ্ধতিতেও ঘট’নাস্থলেও তার উপস্থি’তি শ’নাক্ত করতে পেরেছেন তদ’ন্তকারীরা। লিন্ডা ফোর্ড বলেন, ‘এ মা’মলার ক্ষেত্রে বি’স্তর প্রমাণ রয়েছে। অ’পরাধ সং’ঘটনের আগে ও পরে তাকে নজরদারি ক্যামেরায় দেখা গেছে। ভিডিও টেপ দেখে অ’ন্তত দুইজন ব্যক্তি তাকে শ’নাক্ত করতে পেরেছে।’

ফোর্ড আরও অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই দুপুর প্রায় পৌনে দুইটার দিকে লিফটে করে ফাহিমের পিছু নেয় মা’স্ক পরা হ্যাসপিল। লি’ফটটি ফাহিমের ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পর পরই তাকে ধা’ক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার ঘা’ড়ে ছু’রিকাঘা’ত করা হয়। এরপর ম’রদেহ অ্যাপা’র্টমেন্টের ভেতরে রেখে সেখান থেকে চলে যায় হ্যাসপিল।

পরদিন হোম ডিপো থেকে ক’রাত ও অন্যান্য জিনিসপত্র কিনে আবারও ওই অ্যা’পার্টমেন্টে যায় সে। সূ’ত্রকে উ’দ্ধৃত করে নিউ ই’য়র্ক পো’স্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাহিমের ম’রদেহ টু’করো করা শেষে সেগুলো ব্যাগে ভরে ফেলার পরি’কল্পনা ছিল হ্যাসপিলের। তবে তার আগেই ফাহিমের খালাতো বোন এসে ক’লিংবেল চাপতে থাকলে ভ’য়ে সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায় সে।

বিচারক জোনাথন স’ভেটকি জামিনের সুবিধা ছাড়াই হ্যাসপিলকে আ’টক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বি’রুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার খু’নের অ’ভিযোগ আনা হয়েছে প্রসি’কিউশনের পক্ষ থেকে। নিউ’ইয়র্কের আইনে প্রথম মাত্রা বা দ্বিতীয় মাত্রার হ’ত্যা’কা’ণ্ডের সর্বোচ্চ দ’ণ্ড সমান। আদালতে অ’পরাধ প্রমাণিত হলে, সর্বনিম্ন ১৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাব’জ্জীবন কা’রাদণ্ড হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি কারা’দণ্ডে প্যারোল বা প্যারোলবিহীন দ’ণ্ড আরোপ করা হতে পারে। ফাহিম সালেহর হ’ত্যাকা’ণ্ডে টাইরেস হ্যাসপিলকে গ্রে’ফতার করা হলেও হ্যাসপিল মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো মা’মলার ত’ন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এর মধ্যে হ্যাসপিলের আইনজীবীর ই’ঙ্গিতপূর্ণ বিবৃ’তি অনেককেই জি’জ্ঞাসু করে তুলেছে। আগামী ১৭ আগস্ট হ্যা’সপিলকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।

ফাহিমের কাছ থেকে আগে ৯০ হাজার ডলার চুরি করেছিল হ্যাসপিল। ফাহিম তখন তাকে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বরখা’স্ত করেছিলেন। তবে তার বি’রুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনো অ’ভিযোগ করেননি। বরং হ্যা’সপিল যেন কি’স্তিতে টাকাটা ফেরত দিতে পারে, তার পথ বাতলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এর আগে ১৪ জুলাই বিকালে নি’উইয়র্ক নগরের ম্যানহাটানে নিজ অ্যাপা’র্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহর খণ্ড খণ্ড ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস