পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মহানগরী আমীরের শুভেচ্ছা বাণী

ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ঈদুল ফিতরের অঙ্গীকার
– মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার গ্রহণের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস সিয়াম ও কিয়াম পালনের পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র উৎসব ‘ঈদুল ফিতর’। ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের সবাইকে জানাচ্ছি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা, ‘ঈদ মোবারক’। ঈদ মুসলিমদের জীবনে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ। আমাদের জাতীয় জীবনেও ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। ঈদের উৎসবে মুসলিম উম্মাহ শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত বিশ্ব গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করে’।

তিনি বলেন, ‘ এবার করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। খোলা ময়দানে উৎসবের সাথে আমরা ঈদের নামায আদায় করতাম। শহরের মানুষেরা গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সাথে ঈদ করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এ বছর লকডাউন অবস্থায় ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে। এছাড়া কোভিড-১৯ রোগে দেশে বিদেশে আমরা হারিয়েছি পরিচিত ও অপরিচিত অনেক ভাইবোনকে। বাংলাদেশে এই প্রাণঘাতি ভাইরাসে অক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রায় ৩০ হাজারের কোটায়। প্রাণহানীর সংখ্যাও ৪শ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিনিয়ত এই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। লকডাউনের কারণে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ অবরুদ্ধ ও কর্মহীন হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। আমি শোকাহত ও দুর্দশাগ্রস্থ পরিবারের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গত মানুষের সার্বিক সহযোগিতা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকারি ত্রাণ ও নগদ অর্থ চুরির মহোৎসব চলেছে। একদিকে অব্যবস্থাপনায় করোনার ভিকটিমরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন, অপরদিকে অবরুদ্ধ মানুষরা খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিকালে একটি গণমুখী, আদর্শবাদী ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে ব্যাপক ত্রাণতৎপরতা চালিয়েছে এবং অভাবগ্রস্থ মানুষের বাড়ী বাড়ী সাধ্যমত ত্রাণ-সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে’।

মহানগরী আমীর বলেন, ‘মাহে রমযানের তাৎপর্য ও ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ধারণ করে শোষণ, বঞ্চনামুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অবরুদ্ধ ও দুর্গত মানুষের কল্যাণে যাকাত, সাদাকাহ, ফিতরাসহ নিজ সঞ্চিত অর্থ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, দাতা সংস্থা ও ইসলামী আন্দোলনের সকল জনশক্তির প্রতি আমি আহবান জানাচ্ছি’।