‘মিসর, ইসরাইল ও আমিরাতের সভাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যত শাসক (আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন জায়েদ মিসরে যেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে যে বৈঠক করেছেন তা ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। মঙ্গলবার ইসরাইলি মিডিয়া এমন তথ্য দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আমন্ত্রণে লোহিত সাগরের কাছে শরম আল শেইখ রিসর্টে আমিরাত ও ইসরাইলের নেতাদের নিয়ে এ ত্রিপক্ষীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মূলত, এ ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনের মাধ্যমে ইরান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। ইরানের পরমাণু আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীকে (আইআরজিসি) উগ্রবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় ক্ষুদ্ধ হয়েছে ওই তিন দেশ।

এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি, খাদ্য ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তা নিরীক্ষার জন্যও এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিসরের আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যত শাসক (আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন জায়েদকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনকে ইরানবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে বিভিন্ন ইসরাইলি গণমাধ্যম।

এছাড়া ইসরাইল টাইমস নামের এক পত্রিকা জানিয়েছে, এ বৈঠকটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর প্রতিবাদ। ইসরাইলের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই পত্রিকাটি জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে গোপনে এ সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়।

এদিকে ইসরাইলের দৈনিক পত্রিকা হারেৎজ বলেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে গমের মূল্য বাড়ায় মিসর বেকায়দায় পড়েছে। কারণ, মিসর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম আমদানিকারক আর রাশিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রফতানিকারক। এখন ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মিসরের জন্য গমের বিকল্প উৎস অনুসন্ধান করছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর