তাসকিনের অগ্নি ঝরা বোলিং :দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস তৈরী

আফ্রিকান সিংহের ডেরায় ঢুকে সিরিজ জিতে আনল বাংলার বাঘেরা। যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে এর আগে এক ম্যাচও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ, সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতেই ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম হলেও দলটির বিরুদ্ধে টাইগারদের এটি দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। রাবাদার করা ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলটি যখন সাকিব কাট করে পয়েন্ট দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন, গ্যালারির হাজার কয়েক বাঙালির কণ্ঠস্বরে সেঞ্চুরিয়ান তখন যেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। রাত ১০টার বাংলাদেশেও তখন ঘরে-বাইরে উচ্ছ্বাস।

এ যেন ডেজা ভু। ৭ বছর আগের দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পুনরাবৃত্তি অনেকটাই। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা। শেষ ম্যাচে ১৬৮ রানে আটকে দিয়ে ২৬ ওভার ১ বলেই ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস:এবারে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ ব্যবধানে সমতা। শেষ ম্যাচে তাসকিনের আগুন বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের ১৫৪ রানে আটকে দিলো টাইগার বোলাররা। জবাবে সেই ২৬ ওভার ৩ বলেই এলো জয়। ব্যবধান সেই ৯ উইকেট।

তাসকিন আহমেদের অগ্নিঝরা বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১৫৪ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। ১৫৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই রাবাদা, এনগিডিদের দেখেশুনেই খেলতে থাকেন তামিম-লিটন। নেননি বাড়তি কোনো ঝুঁকি। দেখেশুনে বাজে বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে আর ভালো বলগুলোকে সম্মান করেই খেলেছেন তামিম-লিটন।

ইনিংসের ১০ম ওভারের চতুর্থ বলে রাবাদাকে লং অন দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। রাবাদার ওই ওভারে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান টাইগার অধিনায়ক। আর তাতেই ১০ম ওভার থেকে বাংলাদেশ পায় ১৬ রান।

দেখে শুনেই ফিফটির দিকে এগোচ্ছিলেন তামিম। ইনিংসের ১৫তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। ক্যারিয়ারে এটি তামিমের ৫২তম ফিফটি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি টাইগার অধিনায়কের তৃতীয় ফিফটি।

তামিমের ফিফটির পর নিজের ফিফটির দিকেই এগোচ্ছিলেন লিটন দাস। কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন টাইগার এই ওপেনার। তবে ফিফটি থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে কেশভ মহারাজের বলে কাভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু কাভারে থাকা বাভুমার তালুবন্দি হয়ে ৪৮ রানেই ফিরতে হয় লিটনকে।

লিটন ফিরলেও দলকে জয় এনে দিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। ১৪১ বল এবং ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে টাইগাররা। তামিম ৮৭ আর সাকিব ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে ৩৭ ওভারে মাত্র ১৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৭ ওভার; ১৫৪/১০; (মালান ৩৯, ডি কক ১২, ভেররেন্নে ৯, বাভুমা ২, ডুসেন ৪, মিলার ১৬, প্রিটোরিয়াস ২০, কেশভ ২৮, রাবাদা ৪, এনগিডি ০, শামসি ৩*); (শরিফুল ৭-০-৩৭-১, মোস্তাফিজ ৭-০-২৩-০, মিরাজ ৫-০-২৭-১, তাসকিন ৯-০-৩৫-৫, সাকিব ৯-০-২৪-২)।

বাংলাদেশ: ২৬.৩ ওভার; ১৫৬/১; (তামিম ৮৭*, লিটন ৪৮, সাকিব ১৮*); (রাবাদা ৫.৩-০-৩৭-০, এনগিডি ৫-০-২৪-০, কেশভ ৭-০-৩৬-১, শামসি ৭-০-৪১-০, প্রিটোরিয়াস ২-০-১৮-০)।

ফলাফল: বাংলাদেশ ১৪১ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে জয়ী।