বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টানাপড়েন > দিল্লিকে কি বুঝিয়ে ফিরলেন কাদের?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ ভোরে দিল্লি থেকে ফিরেছেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দিল্লিতে যান। তার এই ৬ দিনের সফরে তিনি কি পেলেন, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রভাবশালী একজন নেতা।

আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত। ভারতের সঙ্গে তার সখ্যতা-সম্পর্ক রয়েছে বলেও একাধিক মহল মনে করে। আর এরকম বাস্তবতায় চিকিৎসার জন্য ভারতে গেলেও তিনি যে আসলে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেছেন, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ওবায়দুল কাদেরের হঠাৎ কেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন হলো এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি ভারতে গেলেন এবং ভারতে যাওয়ার জন্য কেন তিনি দিল্লিকে বেছে নিলেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বোঝা যায় যে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পেছনে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। যদিও ওবায়দুল কাদেরের এই সফর নিয়ে গণমাধ্যমে কোন কথাবার্তা দেখা যায়নি। তিনি কার সাথে দেখা করেছেন বা কাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, এনিয়েও কোন খবর প্রকাশিত হয়নি। তবে অনেকেই মনে করেন যে, যেহেতু তিনি ভারতের উচ্চ মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন নীতিনির্ধারকও বটে। সেজন্যই অনানুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলতেই তিনি ভারতে গিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা টানাপড়েন এবং অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের আগ্রাসী ভূমিকা ভারতকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। আর এটির প্রকাশ ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করাটা জরুরী ছিল।

বিশেষ করে বিজেপির বিভিন্ন থিংক-ট্যাংকদেরকে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদের ভূমিকা রেখেছেন বলেই অনেকে মনে করেন। ভারতের একটি উগ্রবাদী মহলের মধ্যে ছড়ানো হচ্ছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়রা নিরাপদ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে একটি পরিকল্পিত গোষ্ঠী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন সম্পর্কে মিথ্যা-বানোয়াট এবং উত্তেজক তথ্য সরবরাহ করছে। যে তথ্যগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সঠিক অবস্থান ব্যাখ্যা করটা প্রয়োজন হয়েছিল। ওবায়দুল কাদের সেই প্রয়োজনীয় কাজটি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন বলে অনেকে মনে করেন।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও ভারতকে নিয়ে নানারকম অস্বস্তি রয়েছে। যেমন সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। এই বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন কথাবার্তা হয়েছে। এ নিয়েও হয়তো ওবায়দুল কাদের ভারতের থিংক-ট্যাংকদেরকে সঙ্গে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের অনেকগুলো বিষয় নিষ্পন্ন হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি এবং নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে এই অনিষ্পন্ন বিষয়টি নিষ্পন্ন করাটা আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দুই দেশই।

আর সেই ঐক্যের ব্যাপারে প্রথম পদক্ষেপ নিতে ওবায়দুল কাদের দিল্লি গিয়েছিলেন কিনা, সে নিয়েও অনেকের প্রশ্ন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, সামনে নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকগুলোই আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হবে, নানা রকম আলাপ-আলোচনা হবে। সেটির সূত্রপাত হয়তো ওবায়দুল কাদেরের দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হলো।