মার্কিন-ভারত প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে দিল পুতিন ? বন্ধু তুই বেঈমান , তুই একটা চিটার !

আমেরিকা ও ভারত দুইটি দেশ ই স্বার্থপর নাম্বার ওয়ান , নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এক পা ও আগায় না। তারপরও দুই দেশ বন্ধুত্ব হল কিভাবে ? খুবই সহজ অংক , দুই জনের প্রয়োজনের স্বার্থ একই , চীন কে দমিয়ে রাখা তাতে ভারতের লাভ আমেরিকারও লাভ, তাই দুইজন এই স্বার্থের জন্য গলায় গলায় হাত মিলিয়ে কোয়াড করেছিল চীন ঠেকাও । যে খানে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ভারত -আমেরিকার এই রসায়ন প্রেম পুতিন এসে গন্ডগোল পাঁকিয়ে দিল , বন্ধুত্বের ফাঁটল হলে , এক বন্ধু আরেক বন্ধু কে বলে বন্ধু তুই বেঈমান , তুই একটা চিটার !

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা এখনও ‘অমীমাংসিত’। ইউক্রেনে রুশ হামলা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের আগে ওয়াশিংটন ও দিল্লি একই পথে রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এ কথা জানান।

বাইডেন বিস্তারিত জানাননি। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জবাবে তার প্রশাসন ও ভারতের মধ্যে ‘বিব্রতকর বিভাজন’ স্পষ্ট হয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের একটি প্রধান কেন্দ্র ভারত।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ভারত। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক বেশ পুরনো। এখনও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী হলো মস্কো

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের একটি হলো ভারত। শুক্রবার ইউক্রেনে রুশ হামলা নিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবে ভোট দিতে পারে দেশটি। এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা জানান, খসড়া প্রস্তাবে অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকতে পারে।

রাশিয়া এই প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু ওয়াশিংটন এই ভোটকে সুযোগ নেওয়া এবং মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে। তারা অন্তত ১৩টি ভোট নিজেদের প্রস্তাবের সমর্থনে আনতে চায়। রাশিয়া ও দেশটির অংশীদার চীন অনুপস্থিত থাকতে পারে।

এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে হামলার জন্য রাশিয়ার নিন্দা করা এড়িয়ে গেছে ভারত। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক ফোনালাপে সেখানে সহিংসতার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ওয়াশিংটনের অবস্থানকে ভারত পুরোপুরি সমর্থন করছে কিনা জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, আমরা আজ ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আছি। আমরা এখনও সম্পূর্ণভাবে তা মীমাংসা করতে পারিনি।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৃহস্পতিবার আলোচনা করেছেন। এতে রাশিয়ার আক্রমণের নিন্দা এবং অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধবিরতির আহ্বানের জন্য দৃঢ় সমন্বিত পদক্ষেপে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এক টুইটে জয়শঙ্কর বলেছেন, ব্লিনকেনের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন ইউক্রেন পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে। ফোনালাপ সম্পর্কে এর বেশি কিছু বলেননি তিনি।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং সংলাপ ও কূটনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার উৎকৃষ্ট পন্থায় জোর দিয়েছেন।

রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করে ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছিল দিল্লি। ২০১৭ সালের একটি আইনের আওতায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ে দিল্লি। ওই আইনের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশকে রুশ অস্ত্র কেনা থেকে বিরত রাখা।

গত বছর ডিসেম্বরে পুতিনের দিল্লি সফরে রাশিয়া ও ভারত বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও অস্ত্র ক্রয়চুক্তি করে। একটি চুক্তিতে ৬ লক্ষাধিক কালাশিনোকভ অ্যাসল্ট রাইফেল ভারত উৎপাদন করবে।

কংগ্রেসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান রয়েছে। কিন্তু কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের কারণে প্রশাসনের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা জারির চাপ জোরালো হতে পারে।

যেকোনও নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে কোয়াড ফোরামে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সহযোগিতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। চীনের প্রভাব মোকাবিলায় কোয়াড ফোরামে আরও রয়েছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া।

হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে বাইডেনের মন্তব্যের বিস্তৃত ব্যাখ্যা জানানোর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

সূত্র: রয়টার্স